Showing posts with label প্রদীপ দে. Show all posts
Showing posts with label প্রদীপ দে. Show all posts

Saturday, 4 June 2022

ভুতপ্রেত কেনাবেচার ভূতহাট " -- প্রদীপ দে


   
 " ভুতপ্রেত কেনাবেচার ভূতহাট "
  প্রদীপ দে

পাঁঠার ঝোল আর রুটির ডিনার সারলাম আজ রাতে। খেয়েদেয়ে হজম করতে সামনের বাগানে পায়চারি মারতে শুরু করে দিলাম। কি ভালো না লাগছে! ফুরফুরে বাতাসটা আমার হাতের আঙুলের মাংসের গন্ধ মেখে আমায় জানান দিচ্ছে আমি কতই না বড় লোক! না হলে এই বাজারে কেউ দুবেলা পাঁঠার মাংস খায়? কিন্তু আমি খাই -- আমি হলাম গিয়ে বংশধর হালুই।

আমার বংশধরেরা একেবারে সোজা সহজ সরল ছিল না, উল্টে তারা মানুষ ছিল ভীষণই জটিল। সব সময়েই লোকের ক্ষতি করা,লোকের জমি জমা সম্পত্তি ভুলিয়ে ভালিয়ে অথবা বিপদে ধার কর্জ দিয়ে শেষে গায়েব করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এরকম করে জমিদারি রাখা এবং সম্পত্তি বাড়াতে তারা ছিল সিদ্ধহস্ত।
আমিও যেন তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করি তাই আমার নামেই বংশধর লাগিয়ে আমাকে তাদের পালকযুক্ত করেছিল। সত্যি কথা বলতে ভয় নেই।আমি আমার গুনের বংশের কথা অকপটে স্বীকার করে নিলাম।

ভাবার সময় পেলুম না সামনেই জ্যাঠামশাই লাঠি হাতে জ্যাঠামি হাসি হেসে চলেছে। আমি অবাক। জ্যাঠার আগমনে। কোথা দিয়ে উদয় হলেন কে জানে? 
--  কিরে বংশ কেমন আছিস? সামনেই তো ভোট?

--  হ্যা হ্যা করে গাল ভর্তি হাসি এলো। শালা গুরুজন এসে গেল। তবুও --
--  তুমি এখন কোথা দিয়ে? মুক্তি হয়নি তোমার?

--  দূর শালা কেউ তো এখনো কিনলো না -- সবাই টিপে -টাপে চলে যায়। দাম দেয় না -সব কিপ্টের দল!

--  সে  আবার কি কথা?  ভূতকে কেউ কিনবে নাকি? মুক্তির সংগে তার যোগই বা কি?

--  হ্যাঁ রে তোর দেখছি এখনো বুদ্ধি হয়নি! আমাদের বংশধর হিসাবে তোকে মানায় না। দেখছিস না চারিদিকে কিরকম নেতা কেনা বেচা চলছে?

--  আরে তার সংগে ভূতের কেনা -বেচার কি সম্পর্ক?

--   আরে শোন ভোটে নেতার মত ভূত ও কেনাবেচাও চলে সমান তালে।

--  সেটা আবার কি?

--  দেখতে চাস?  চল আমার সংগে হাটে ---

জ্যাঠা মানেই ভূত। আর ভূতে ধরলে রক্ষা নেই। পিছু নিলাম, না পা দুটো ওঁর পিছনে এগিয়ে গেল, বুঝলাম না। কিছুটা যাওয়ার পর অন্ধকার একটি মাঠ পেলাম। সেখান থেকে কলরব নেকী সুরে গান আর ঢপাস ঢপাস ঢেপসি নাচের আওয়াজ পেলুম।অনেক ভিড় -- সকলের চোখে যেন টুনি বাতি চকমকিয়ে জ্বলছে।

জ্যাঠা বললে -- এটা ভূতহাট - ভূতমাঠ।

প্রথমদিকে ভয় পেলেও পরে আশস্ত হলাম - চেনা জন সবাইকে দেখে। আমার পূর্বপুরুষ প্রায় সকলেই আছে প্লাস আমার জানাশোনা মৃতরা!
আসল কথা বদমাশেরা সকলেই আছে যাদের কপালে, পাপকর্মের ফলে, এখনো মুক্তি জোটে নি

ভূতপ্রেত ছাড়া আমার মত অনেক লোক থলে হাতে বাজার করছে। কি বাজার?
-- সব ভূত প্রেত পেত্নী দক্ষ -দানব এই সব।
মানুষের মধ্যে আমিই একা যার হাতে থলে নেই।
মানে আমিই একমাত্র যে এই বাজারের হদিশ জানতাম না। 
যা হবার হয়েছে  যাকগে,-- এসেছি যখন একটঘুরে দেখি ---

অবাক কান্ড ---
তান্ত্রিকেরা বস্তা করে ভূত পেত্নী কিনেছে এবং বেশ কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করেই। একজন সাইকেলে ভূতে ভর্তি বস্তা বাঁধছিল, ধরলাম -- দাদা এগুলো কি কাজে লাগবে? ভয় লাগে না?

--  হা হা হা --- হেসে উঠলেন ক্রেতা -- না না দাদা ভূতে ভয় নাই -- ভূত ভাল। ওদের দিয়ে মানুষের অনেক উপকার হয়। তুক -তাক বশীকরণ আরো কত কি! আর মানুষ?   ছ্যা - ছ্যা মানুষ?  ওদের দিয়ে কোন কাজ হয় না, শুধু ক্ষতি করতে জানে।

আরো কিছু রাজনৈতিক দলের লোকজনদের দেখলাম -ভূত কিনছে।
জিজ্ঞাসা করলাম -- দাদা ভূত প্রেত কেন কিনছেন?

-- দাদা -সামনে ভোট। নেতার সঙ্গে সঙ্গে  ভূতও কিনে ষ্টক রাখতে হচ্ছে। ওরাই তো আমাদের শেষ অস্ত্র, শেষ ভবিষ্যৎ!

আমার দাদুকে একজন কিনলো। মৃত আত্মীয়রা দেদার দামে কয়েক মাসের চুক্তিতে বিকিয়ে গেল।

ভূতের ভূতুড়ে হাটে -- মৃতজনেরা মরার পর হা - পিত্তেস করে বসে থাকে নিজেদের দাম গুনে বিকিয়ে যাওয়ার আশায়!

আমি মানুষ হয়ে লজ্জায় ফিরে এলাম -- মানুষের  কোন দাম নেই দেখে -- আবার ভূতেদের না কিনে না উপকার করে, ওদের কোন কাজে না লাগতে পেরে। লজ্জায় মাথা নত হয়ে গেল!
-----------------------------------------------


***পরিচিতি :
লেখক নেশায় লেখে। অবসর জীবন।  বয়স -৬৩ । বিবাহিত। নিজের লেখা বই আছে। অনেক পত্রিকায়  লেখা প্রকাশ পায়। বিদেশের পত্রিকায় লিখি।

প্রদীপ কুমার দে
বিরাটী আবাসন
এল আই জি -৯
এম বি রোড
নিমতা
কোলকাতা -৭০০০৪৯
মোবাইল -৮০১৭২৬৭৬২৬

PRADIP KUMAR DEY
Birati Housing Estate
LIG - 9
M.B.ROAD.
NIMTA
KOLKATA - 700 049
West Bengal
INDIA
Mobile - 8017267626 ( Whatsapp)

বাঁশবাগানের ভূত -- সাবিত্রী দাস

বাঁশবাগানের ভূত সাবিত্রী দাস আজ যে এত দেরী হয়ে যাবে কে জানতো! পরের হাটবারে ভোর থাকতে বেরোলে দুধ বেচে ঠিক সময়ে  ফিরতে পারবে পানুর...