Saturday, 4 June 2022

বাবা --দেবাশীষ চক্রবর্তী


বাবা --
দেবাশীষ চক্রবর্তী 
  
একটি বাংলা সংবাদ চ্যানেলের সাংবাদিক এষা রোজকার মতোই আজও রাত দশটা নাগাদ ট্রেন থেকে নামল। মাঘের প্রথম, বেশ ঠান্ডা। টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ায় পুরো কাঁপিয়ে দিচ্ছে । পরিকল্পনা করে এষা যে রাস্তা দিয়ে বাড়ি যায় তার সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। এষা প্ল্যাটফর্ম থেকে নামল চারদিকে অন্ধকার।
    স্টেশন থেকে তার বাড়ি হেঁটে যেতে মিনিট সাতেক লাগে।
অন্যদিন সে হেঁটে যায় আজ তার একটু ভয় ভয় করছিল। তা ছাড়া সঙ্গে ছাতাও নেই। দুটো টোটো দাঁড়িয়েছিল। ও জানে ওরা যাবে না। এক নেতার দুর্নীতি ফাঁস করে দেওয়ার পর টোটো আর অটো চালকদের স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, কেউ যদি এষাকে যাত্রী হিসেবে নেয় তা হলে সে আর এই রুটে গাড়ি চালাতে পারবে না। সব জেনেও সে টোটো চালকদের ভাড়া যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল, কিন্তু ওরা রাজি হল না। 
     বাবার মৃত্যুর পর বাড়িতে মা একাই থাকেন। এষা তাঁকে  বিরক্ত করতে চাইল না, তাই যা আছে কপালে ভেবে এষা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাঁটতে শুরু করল। হঠাৎ অন্ধকার ফুঁড়ে দুই যুবক তার দুপাশে এসে দাঁড়াল। এষা জোরে পা চালাতে যেতেই দুই যুবক তাকে এক ঝটকায় রাস্তার পাশের এক পরিত্যক্ত-বন্ধ কারখানর ভিতর টেনে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। বোঝা গেল কারখানার দরজা খোলাই ছিল।
   এতক্ষণে অন্ধকার অনেটাই এষার চোখ সওয়া হয়েগেছে। সে চিৎকার করতে গিয়ে থমকে গেল। অন্ধকারেই দেখল ওদের একজনের হাতে রিভলভার আর অন্যজনের হাতে ধারাল ছুরি চকচক করছে।
    ওর দিকে রিভলভার তাক করা ছেলেটা গালাগালি দিতে দিতে হিস হিস করে উঠল, বিরাট সাংবাদিক হয়েছিস না? এবার কী হবে? তোকে খাব; মারব তারপর পুঁতে দেব। তোকে কে বাঁচাবে তোর বাপ?
    কথাগুলো শুনতে শুনতে অসহায় এষা চোখ বুজে ফেলেছিল। হঠাৎ ধপ করে একটা আওয়াজ হল। এষার চোখ খুলে গেল। সে দেখল, রিভলভারধারী যুবকটি কুড়িফুুট দূরের দেওয়ালের গায়ে আছড়ে পড়ল। তার বাবা দ্বিতীয় যুবকটিকে দুহাতে তুলে দেয়ালের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে। এষা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। 
    বাবাকে দেখে এষা কেঁদে ফেলল, বাবা, তুমি এসেছ বাবা!
সে বাবার দিকে ছুটে যাচ্ছিল। বাবা হাত দেখিয়ে তাকে থামিয়ে দিলেন। এষা দেখল বাবারও চোখের কোনায় জল চিক চিক করছে। মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বাবা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন সঙ্গে সঙ্গে দুই যুবকের উপর কুড়িফুট উঁচু পাঁচিলটা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল।


***লেখক পরিচিতি:- পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার সুখচরে নভেম্বরের পাঁচ তারিখে জন্ম। বাংলা সাহিত্যে ও শিক্ষাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং এম.ফিল. বতর্মানে বিদ্যালয়ে
শিক্ষকতা করেন।
   খুব ছোট থেকেই লিখছেন। একটি ষাণ্মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। চারজনের সঙ্গে একটি যৌথ কবিতার বই আছে। লেখক কবিতা, ছড়া, নাটক আর গল্প লেখেন।

ইন্দিরালয়, নরসিংহ দত্ত ঘাট রোড,
সুখচর, কলকাতা- ৭০০১১৫
চলভাষ- ৯৮৩০৭৯৪৪৮৯
হোয়াটসঅ্যাপ- ৯৭৪৮২৮৩০৩৩
ইমেল- aamidebashis21@gmail.com

No comments:

Post a Comment

বাঁশবাগানের ভূত -- সাবিত্রী দাস

বাঁশবাগানের ভূত সাবিত্রী দাস আজ যে এত দেরী হয়ে যাবে কে জানতো! পরের হাটবারে ভোর থাকতে বেরোলে দুধ বেচে ঠিক সময়ে  ফিরতে পারবে পানুর...