Saturday, 4 June 2022

সম্পাদকীয়--


সম্পাদকীয়--

যদি প্রশ্ন করা যায় আমাদের মনের মধ্যে ভয়ের ব্যাপারটা কোথা থেকে এলো? আসলে মৃত্যুই তার প্রধান কারণ। মানুষ মরণশীল, জগতের সব প্রাণীর পরিণতি হল মৃত্যু । মানুষের কাছে মৃত্যু হল সবচেয়ে রহস্যময় । আমরা আছি, নেই, আজ আছি, কাল নেই আর এই মৃত্যুর পর মানুষের অবস্থান, পরিণতি কি ? আত্মার কি আদৌ কোন অস্তিত্ব আছে ? মুনি ঋষিদের প্রজ্ঞা-জ্ঞান এ ব্যাপারে অনেক কিছু উজাগর করেছে। তাদের মতে, আত্মা অজর, অমর। মানুষ দেহ ত্যাগ করে, দেহ নশ্বর কিন্তু আত্মা অমর আর এই আত্মাই নাকি নামান্তরে ভূত বলে পরিচিত। আর ভুতের অলৌকিক কিছু শক্তিও নাকি আছে। ওরা রূপ বদলায়, রূপান্তরিত হতে পারে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারে, দোষীকে শাস্তিও দিতে পারে। অনেক অলৌকিক শক্তির অধিকারী এরা-- ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সঙ্গে মানুষের জন্মান্তরবাদও একটা বড় রহস্য।

অলৌকিক প্যারানরমাল ব্যাপারটা বড় রহস্যের সঙ্গে সঙ্গে বড় রোমাঞ্চকরও বটে। অনেকে বলেন, ভয় থেকে ভুতের জন্ম। ব্যাপারটা অনেকাংশে সত্য। 

মানুষ যদি ভগবানকে বিশ্বাস করতে পারে তবে ভূতকে নয় কেন? হ্যাঁ ভূতের সংজ্ঞা অনেক রকম হতেই পারে-- অশুভ শক্তি, দেবতার পাশাপাশি অত্যাচারী রূপী আসুরিক শক্তি এগুলি সবই তো প্যারানরমাল বা অলৌকিকতা ধর্মী। তবে একটা কথা লক্ষ্য করার মত যারা ভূত বিশ্বাস করেন না তাদের অন্তরে ভূতের ভয় বেশী থাকে। 

আসলে ওই মৃত্যু রহস্যের মাঝেই এ সব মিরাকেল লুকিয়ে আছে। মৃত্যু জীবনের এক চিরন্তন সত্য, এ দিকটাকে কেউ অগ্রাহ্য করতে পারে না। 

আমাদের এবারের সংখ্যা, ভূত-ভৌতিক সংখ্যা। মানুষ মাত্রেই এ বিষয়টির ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপেক্ষাকৃত বেশি উৎসাহী।  কাল্পনিক স্বপ্নালু সে সঙ্গে ঘটনার মধ্যে অলৌকিক চমৎকারী কিছু মিশে গেলে আমাদের আগ্রহের কোন অন্ত থাকে না। 

এ সব নানা কথা ভেবে আমরাও বর্তমান সংখ্যা ভূত-ভৌতিক বিষয় নিয়ে তৈরি করেছি। বর্তমান সংখ্যাটি আপনাদের সবাইকে পড়ে দেখতে অনুরোধ জানাই। আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য আমাদের পথ প্রদর্শনে সাহায্য করবে। 

এ প্রসঙ্গে আরও একটা কথা জানিয়ে রাখি, আমাদের পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাগুলি আগে-পরে সাজানোর ক্ষেত্রে কোন আলাদা পরিকল্পনা থাকে না। ভালো লেখা বা ভালো লেখক পত্রিকার শুরুতে স্থান পাবেন এমন কোন ভাবনা আমাদের নেই--বেশিরভাগটুকু আগে-পরে পৌঁছনোর ক্রমানুসারে সাজানো হয়। আমাদের পত্রিকায় নামিদামি লেখকরা যেমন আছেন তেমনি আগামীর সম্ভাবনাকেও ধরে রাখার জন্য অনামী, নবীন লেখকরাও আছেন। আজ এ পর্যন্ত--নিবেদন ইতি--তাপসকিরণ রায়।

সহ- সম্পাদকের কলমে:

আমাদের নিত্যদিনের চেনা শোনা জগতের   বাইরেও  যে একটা অজানা অদেখা জগত আছে, একথা অনেকেই  বিশ্বাস করেন। অনেকে আবার এসব বিশ্বাস করতে চান না। আছে আর নেই এ বিষয়ে অদ্যাবধি তর্কও বড়ো কম হয়নি। পারলৌকিক জগতে বিশ্বাসকে দৃঢ় করতেই হোক বা অজানা তথ্য আহরণের জন্যই বসেছেন প্ল্যানচেটে
 বিশ্বাস আর অবিশ্বাস যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। আবার এটাও ঠিক এমন অনেক ঘটনা ঘটে থাকে যার ব্যাখ্যাও যুক্তি বুদ্ধির অতীত।
এবারের  বিষয় হলো ভূত- ভৌতিক- অলৌকিক। অজানা-অদেখা অতীন্দ্রিয়  জগতের গল্প। ভূত আছে কী নেই, এ নিয়ে যতই বিতর্ক থাক না কেন ভূত বা ভৌতিক জগত সম্বন্ধে মানুষের কৌতূহলও কিছু কম নয়! আবার লৌকিক বিশ্বাসের বাইরেও যে কিছু শক্তি ক্রিয়া করে অর্থাৎ অলৌকিক ঘটনাবলী সম্পর্কে ও মানুষের আগ্রহের সীমা পরিসীমা নেই।
তবে ভূতের অস্তিত্বটুকুও যে ক্রমশ বিপন্ন হয়ে আসছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। না আছে আশ শ্যাওড়ার ঘন জঙ্গল না কোন পোড়ো বাড়ী। শ্যাওড়া গাছের ডালে পা ঝুলিয়ে বসে থাকা পেত্নীরাও একপ্রকার বাধ্য হয়েই এখন ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। প্রমোটারের কল্যাণে এ সমস্ত অবলুপ্তির পথেই বলা যায় ,যদিও বাঁশবাগানের বাঁশঝাড় গুলি এখনো সম্পূর্ণ রূপে তেনাদের  হাতছাড়া হয়নি। ভূত নিয়ে তর্ক বিতর্ক যারা করে করুক, ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে যাদের সন্দেহ থাকে থাক, ভূতের গল্পের অস্তিত্ব বজায় রাখতেই হবে। দেশে বিদেশে সাহিত্য জগতের অনেকটা জুড়েই রয়েছে  ভৌতিক জগতের সাম্রাজ্য।  
      শুধু মাত্র শিশু কিশোর সাহিত্য  নয়, বড়দের অনেক পত্রিকাই ভূত বিষয়ক সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে।
        এবারের অণুগল্প গুলির মধ্যেও এবারে  ভূতেরাই না হয় বিচরণ করুক স্বচ্ছন্দে ।-- সাবিত্রী দাস।

No comments:

Post a Comment

বাঁশবাগানের ভূত -- সাবিত্রী দাস

বাঁশবাগানের ভূত সাবিত্রী দাস আজ যে এত দেরী হয়ে যাবে কে জানতো! পরের হাটবারে ভোর থাকতে বেরোলে দুধ বেচে ঠিক সময়ে  ফিরতে পারবে পানুর...