যদি প্রশ্ন করা যায় আমাদের মনের মধ্যে ভয়ের ব্যাপারটা কোথা থেকে এলো? আসলে মৃত্যুই তার প্রধান কারণ। মানুষ মরণশীল, জগতের সব প্রাণীর পরিণতি হল মৃত্যু । মানুষের কাছে মৃত্যু হল সবচেয়ে রহস্যময় । আমরা আছি, নেই, আজ আছি, কাল নেই আর এই মৃত্যুর পর মানুষের অবস্থান, পরিণতি কি ? আত্মার কি আদৌ কোন অস্তিত্ব আছে ? মুনি ঋষিদের প্রজ্ঞা-জ্ঞান এ ব্যাপারে অনেক কিছু উজাগর করেছে। তাদের মতে, আত্মা অজর, অমর। মানুষ দেহ ত্যাগ করে, দেহ নশ্বর কিন্তু আত্মা অমর আর এই আত্মাই নাকি নামান্তরে ভূত বলে পরিচিত। আর ভুতের অলৌকিক কিছু শক্তিও নাকি আছে। ওরা রূপ বদলায়, রূপান্তরিত হতে পারে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারে, দোষীকে শাস্তিও দিতে পারে। অনেক অলৌকিক শক্তির অধিকারী এরা-- ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সঙ্গে মানুষের জন্মান্তরবাদও একটা বড় রহস্য।
অলৌকিক প্যারানরমাল ব্যাপারটা বড় রহস্যের সঙ্গে সঙ্গে বড় রোমাঞ্চকরও বটে। অনেকে বলেন, ভয় থেকে ভুতের জন্ম। ব্যাপারটা অনেকাংশে সত্য।
মানুষ যদি ভগবানকে বিশ্বাস করতে পারে তবে ভূতকে নয় কেন? হ্যাঁ ভূতের সংজ্ঞা অনেক রকম হতেই পারে-- অশুভ শক্তি, দেবতার পাশাপাশি অত্যাচারী রূপী আসুরিক শক্তি এগুলি সবই তো প্যারানরমাল বা অলৌকিকতা ধর্মী। তবে একটা কথা লক্ষ্য করার মত যারা ভূত বিশ্বাস করেন না তাদের অন্তরে ভূতের ভয় বেশী থাকে।
আসলে ওই মৃত্যু রহস্যের মাঝেই এ সব মিরাকেল লুকিয়ে আছে। মৃত্যু জীবনের এক চিরন্তন সত্য, এ দিকটাকে কেউ অগ্রাহ্য করতে পারে না।
আমাদের এবারের সংখ্যা, ভূত-ভৌতিক সংখ্যা। মানুষ মাত্রেই এ বিষয়টির ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপেক্ষাকৃত বেশি উৎসাহী। কাল্পনিক স্বপ্নালু সে সঙ্গে ঘটনার মধ্যে অলৌকিক চমৎকারী কিছু মিশে গেলে আমাদের আগ্রহের কোন অন্ত থাকে না।
এ সব নানা কথা ভেবে আমরাও বর্তমান সংখ্যা ভূত-ভৌতিক বিষয় নিয়ে তৈরি করেছি। বর্তমান সংখ্যাটি আপনাদের সবাইকে পড়ে দেখতে অনুরোধ জানাই। আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য আমাদের পথ প্রদর্শনে সাহায্য করবে।
এ প্রসঙ্গে আরও একটা কথা জানিয়ে রাখি, আমাদের পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাগুলি আগে-পরে সাজানোর ক্ষেত্রে কোন আলাদা পরিকল্পনা থাকে না। ভালো লেখা বা ভালো লেখক পত্রিকার শুরুতে স্থান পাবেন এমন কোন ভাবনা আমাদের নেই--বেশিরভাগটুকু আগে-পরে পৌঁছনোর ক্রমানুসারে সাজানো হয়। আমাদের পত্রিকায় নামিদামি লেখকরা যেমন আছেন তেমনি আগামীর সম্ভাবনাকেও ধরে রাখার জন্য অনামী, নবীন লেখকরাও আছেন। আজ এ পর্যন্ত--নিবেদন ইতি--তাপসকিরণ রায়।
No comments:
Post a Comment