সীমা ব্যানার্জ্জী-রায়
ঘুম থেকে উঠে দেখলাম বেশ জোরে বৃষ্টি পড়ছে-চারিদিক সাদা একেবারে। আজ তো বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল না-সত্যি আজকাল আবহাওয়ার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। ভারী পর্দা সরিয়ে নিজেই বিড়বিড়িয়ে নিলাম।
তাও কাজে যাবার জন্য তৈ্রী হতে শুরু করলাম। তৈরী হয়েও দেখলাম -না, বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষ্মণ-ই দেখা যাচ্ছে না। উপরন্তু আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। শ্রান্ত সাংঘাতিক বৃষ্টি।
থাক এই বাজে আবহাওয়ায় অফিস না যাওয়াই ভালো। কাজেই যাওয়া স্থগিত রাখলাম। অফিসে জানিয়ে রাখলাম বাড়ি থেকে কাজ করছি ।
আজ আবার আর্থ ডে। কালই যাব। ভালো লাঞ্চ পার্টি আছে। পার্টি মানেই বেলা এগারোটা থেকে হৈ-হুল্লোড়। বেশ ফাঁকি মারার দারুণ ছুতো।
লুজিয়ানা অফিসের এক প্রিয় বান্ধবী ইভেটের সাথে গপ্প করার প্ল্যান কষে ফেললাম। বাইরে ঘন অন্ধকার। চারিদিক নিঝুম। যাকে বলে ছুঁচ পড়লেও আওয়াজ শোনা যায়। ঘুমে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে।
গরম কফির কাপ হাতে চলে এলাম দোতলার অফিস রুমে। কাজ খানিকটা এগিয়ে গেলে লাঞ্চ সেরে ফেললাম। এক ঘন্টার লাঞ্চ। এখনই ফোনে ইভেটের সাথে কথা বলাই ঠিক করলাম। ঘুমটা ভেঙ্গেও যাবে আর সময়-ও কেটে যাবে। হাজবেন্ড গেছে একটা কনফারেন্স-এ দু-দিন হল। আমি একেবারে একা এই বিশাল বাড়িতে। এমনি আমি সাংঘাতিক ভীতু। সুইভেল চেয়ারে গা এলিয়ে ফোন করলাম ইভেট-কে।
-হেই, ইভেট? হাউ আর ইউ ডুইং দিস ডে'জ? ইভেট ? আর ইউ দেয়ার?
নাঃ -কোন উত্তর নেই। অনেকদিন ফোন করা হয় নি, তাই বোধহয় রাগ হয়েছে আমার ওপর। সব দেশের মেয়েরাই অভিমানী হয়।
হঠাৎ ফোনের আলোটা জ্বলে উঠল। বুকটা ধড়াস করে কেঁপে উঠল। একেবারে চমকে উঠলাম। একটা যেন চিঁহি চিঁহি হাসির শব্দ শুনতে পেলাম ফোনে। কড়াৎ করে কোথায় যেন বাজ পড়ল। কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা ধরে কানের সাথে একেবারে লাগিয়ে পরিষ্কার শুনতে পেলাম...
-আঁই এ্যাঁম নোঁ মোঁর, ডিঁয়ারঁ......
No comments:
Post a Comment