সৌম্যদীপ সাহা
" দেখতে দেখতে কেটে গেল তিন-তিনটে বছর তাও তুমি তোমার কাজ সেই করেই যাও। একটু বিরক্ত বা ক্লান্তি আসে না তোমার মধ্যে? আমি রাত জেগে পড়াশুনো করব বলে তুমিও আমার সাথে জাগবে, কেন? আচ্ছা সকালবেলা আমায় একটু সঙ্গ দিতে পারো না?" কথাগুলো সুহাস অভিমান করে বলে।
রাতের বেলা ভাত খাওয়ার পর যখনই সুহাস পড়তে বসে তখনই ওর জীবনের প্রথম প্রেম ওর কাছে আসে। সুহাস অভিমান করলেও মনে মনে অবশ্য আনন্দই পায়। মধ্যরাতের তরল আধারাচ্ছন আকাশে চাঁদ হাসছে; খোলা জানালার দিকে তাকিয়ে সুহাস আবার বলে, “তোমার মনে আছে আগে যখন আমি রাতে পড়াশুনা করতাম আর আমার সাথে বসে থাকতে থাকতে তুমি একঘেয়ে বোধ করলে বারান্দায় গিয়ে তোমার যত্নের সাদা জবা গাছটাকে তুমি অপলকে নিরক্ষণ করতে। এটা মানতেই হবে নরম চাঁদের জ্যোৎস্নায় তোমার জবা ফুলকে সত্যিই খুব সুন্দর লাগত। এখন দেখ তোমার যত্নের গাছ আর নেই, পড়ে রয়েছে তার শুকনো ডাল আর টবের শুকনো মাটি। কিন্তু তোমার এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি, যদিও পরিবর্তন কেবল আসা-যাওয়াতে।
"আমার হাত পা বাঁধা, আমি নিরুপায়। আমি যদি দিনের বেলায় এখানে থাকি তবে আমার আসাই হয়তো বন্ধ হয়ে।পরিবারের সাথে আমার আগেকার সম্পর্ক এবং বর্তমান সম্পর্কে এখন অনেক প্রভেদ।আমি হৃদয় দিয়ে তোমাকে ভালোবাসি বলেই তুমি আমায় দেখতে পাও, কথা বলতে পারো; অন্যরা তা নাও পারে।" তিনি সুহাসকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। সুহাস কথাগুলো শুনে বিষয়টা বুঝতে পারে। এরপর সুহাসের হঠাৎ কী মনে পড়ে যায়, টেবিলের ওপর থেকে লাল রঙের একধরনের ফল এনে খাওয়ার জন্য সাধে,"এই নাও চেরি ফল, আমি খাইনি ,একসাথে খাব বলে। তুমি তো চেরি খেতে ভালোবাসো তাই রেখে দিয়েছি?
সুহাস এখনও আগের মতোই রয়ে গেছে এতটুকুও বদল আসেনি ওর ভালোবাসাতে। ভালোবাসার মানুষকে জিনিস না দিয়ে, সুহাস তার পছন্দের জিনিস খায় না। কিন্তু ভালোবাসার মানুষটি সুহাসের হাত থেকে ফল নিতে পারে না।এই ঘটনায় দুই জনের চোখেই জল তবুও এই ভারাক্রান্ত মুহূর্তটাকে এড়ানোর জন্য সুহাস বলে, "এই শাড়িটা দেখ আমার কাছে রেখেছি, তোমার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে।"
সেই শাড়িটার ওপর হাত রেখে বলেন,"সত্যিই খুব সাধ ছিল তোমার জমানো টাকায় কিনে দেওয়া শাড়িটা একদিন পড়ব।তারপর যে কি হল,এমন রোগ বাসা বাঁধলো সব ছেড়েছুঁড়ে চলে যেতে হল।" কয়েক পল কাটে নীরবে কেউ আর কোনো কথা বলে না, উভয়েরই গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।তিনি আবার বলেন,"ভোরের আলো ফুটছে আমাকে যেতেই হবে এবার,আবার রাতে আসব।"
সুহাস মিনতি করে বলে,"যেও না তুমি। আমার সাথে থেকে যাও, ঠাকুমা।" এই বলে সুহাস হাত ধরার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না।
হ্যাঁ,ঠাকুমা। ঠাকুমাই হল সুহাসের প্রথম ভালোবাসা, সুহাসের প্রিয়তমা। তিনবছর আগে তিনি মারা গেছেন কিন্তু দুজনের ভালোবাসা এখনও সজীব। প্রতিরাতে অশরীরী ঠাকুমা সুহাসের সাথে দেখা করতে আসে।যদিও কেউই একে-অপরকে স্পর্শ করতে, চুমু খেতে, কাঁধে মাথা রাখতে,একে-অপরকে খাইয়ে দিতে পারে না। তাদের দুজনের ভালোবাসা কেবল কথায় ও দর্শনে সীমাবদ্ধ।
*নাম।সৌম্যদীপ সাহা
ডাকঘর।সিঁথি
নম্বর।6290729588
ঠিকানা।556/1 আমবাগান নেতাজী কলোনি,কলকাতা-৫০
Wp।6290729588
No comments:
Post a Comment