Saturday, 4 June 2022

ধর্ষকাম-- রানা জামান

ধর্ষকাম
রানা জামান


খুশির সুনামি বইছে এদের শরীর ও মনে। এরা চারজন কলেজ পড়ুয়া যুবক। বখাটেপনা আছে রাজনৈতিক নেতার ছেলে এবং ঐ ছেলের বন্ধু হবার অকল্যাণে। এইমাত্র নির্বাচন কর্মকর্তা কর্তৃক বিপুল ভোটে ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ প্রার্থী আসগর মোল্লাহকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিজয়ী ঘোষণায় ভজঘট থাকায় প্রতিপক্ষের সকল প্রার্থী একজোট বেঁধে নির্বাচন বয়কট করেছে; ওঁরা পুলিশকে দলপ্রীতি করার দোষারোপ করছে। তাতে কী! চাঁদকে পূর্বদিকে উদিত করা যেমন কঠিন, কোনো নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল বাতিল করাও তেমন কঠিন।

এসব জানে বলেই চার বখে যাওয়া যুবক বাড়ির ছাদে আতজবাজি চালিয়ে যাচ্ছে আকাশে ইচ্ছেমতো। পান চলছে শ্যাম্পেন; সাথে আছে গ্রিল্ড চিকেন ও তন্দুরি। রাত গভীর হতে চলেছে।ওরা বিজয়ের আনন্দ পালন করছে!

সাব্বির ফিসফিস করে প্রস্তাবটা দিলে লুফে নিলো সবাই। ওদের প্রত্যেকের চোখ চকচক করার সাথে শুরু হলো শরীরে শিরশিরে অনুভূতি।

রিয়াজ বললো, রাত অনেক হয়ে গেছে। কোথায় পাবি এখন?

নেতাপুত্র ডিউক বললো, আছে এক জায়গায়!

কোথায়?

ডিউক বললো, চল যাই নিয়ে আসি। প্রস্তাব শোনার পর থেকে বেশ স্টিমুলেটেড ফিল করছি!

কোথায় যেতে হবে বল!

এই বাড়ির ক্যাম্পাসে।

তিন বখাটে চমকে উঠে সমস্বরে বললো, তোদের এই বাড়িতে!

ডিউক বললো, ড্রাইভার শেডে!

রিয়াজ বললো, তাহলে আর দেরি কেনো!

আতিক বললো, এটা করা কী ঠিক হবে? ড্রাইভারের পুরা পরিবার সাথে সাথে তোর বাবার কাছে নালিশ জানিয়ে দেবে।

ডিউক বললো, এসব কাজ করতে হলে এতো ভাবলে চলে না! পরে যা হবার হবে!বাবা ঠিক ম্যানেজ করে নেবে! এখন চল‌!

খালি হাতে গেলে হবে? আমাদের কাছে কোনো অস্ত্র নাই!

আমার বাবার কয়েকটা পিস্তল আছে। তোরা নিচে যা। আমি যে কয়টা পাই নিয়ে আসতাছি।

ডিউক চলে গেলো বাড়ির ভেতরে। কিছুক্ষণ পরের তিনটি পিস্তল নিয়ে নিচে নেমে এলো। রিয়াজ পিস্তল না পেয়ে বাগান থেকে একটা ডাল কুড়িয়ে নিলো। ড্রাইভার শেডে এসে দরজায় টোকা দিলো ডিউক।

দরজা খুললে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকলো চারজন। ড্রাইভার-গিন্নি খাদিজা বেগম কিছু বলতে গিয়ে ডিউককে দেখে থেমে গেলো। কিশোরী মেয়ে শিউলি মার পেছনে লুকোতে চেষ্টা করছে।

একবার ঢোক গিলে মুখভর্তি হাসি ধরে খাদিজা বেগম বললো, কী ব্যাপার ছোট সাহেব, এতো রাইতে পিস্তল হাতে আসছেন? কুনু সমস্যা?

ডিউক ধাক্কিয়ে খাদিজা বেগমকে পাশের কক্ষে ঢুকিয়ে দিয়ে বললো, কোনো রকম চিৎকার করলে তোমার মেয়ে ও তোমাকে গুলি করবো!

আতিক বললো, রিস্ক নেবার দরকার কী! মুখে ট্যাপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখি ঐ রুমে!

রিয়াজ বললো, এখন ট্যাপ দড়ি পাবো কই! মুখে কাপড় ঢুকিয়ে বেঁধে ফেলি। হাতপা-ও বেঁধে ফেলি কাপড় দিয়ে।

শিউলি চিৎকার দিতে চাইলে ওর মুখ চেপে ধরলো ডিউক। অপর তিনজন ঝটপট খাদিজা বেগমের মুখ হাত-পা বেঁধে পাশের কক্ষে ঢুকিয়ে আটকে দিলো দরজা।

ডিউক শিউলির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বললো, টু শব্দ করলে মাথার খুলি উড়িয়ে দেবো! একদম চুপ থাকবি!

প্রচণ্ড ভয় পাওয়ায় ডিউক মুখ থেকে হাত সরিয়ে নেবার পর শিউলি চিৎকারের চেষ্টা করেও শব্দ বের করতে পারলো না মুখ থেকে।এতো কাছে এতোগুলো পিস্তল একসাথে এর আগে সে কখনো দেখেনি। শিউলি কাঁপছে বাঁশপাতার মতো। কী হবে ওর সাথে বা কী হতে যাচ্ছে এই বোধ কাজ করছে না ওর মাঝে।

ওরা শিউলির মুখে হাতচাপা দিয়ে নিয়ে এলে চিলেকোঠায়, যেখানে ওরা স্ফূর্তি করছিলো।ধপাস করে ফেললো বিছানায়।

লালসার জিভ বের করে ডিউক পিস্তলটা প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে শিউলির দিকে এগিয়ে গেলে সাব্বির এক কদম এগিয়ে এসে বললো, উহু!

বুঝতে না পেরে ডিউক সাব্বিরের দিকে তাকিয়ে বললো, উহু মানে?

আজ আমি আগে যাবো!

তুই আগে যাবি মানে?

তুই সবসময় আগে যাস!

রিয়াজ বললো, সাব্বির ঠিক কথাই বলেছে। তুই সবসময় আগে যাস। আজ আমি আগে যাবো!

আতিক বললো, বাহ! তোরা নিজেরাই ঠিক করে ফেলতে চাচ্ছিস কে আগে যাবে! এতদিন আমাকে সবার পেছনে রেখে কাজ করেছিস। আজ আগে যাওয়ার রাইট আমার! আমি আগে যাবো!

রাগে ডিউকের পিত্তি জ্বলতে শুরু করেছে। সে পকেট থেকে পিস্তল বের করে একে একে তিন জনের দিকে তাক করতে লাগলো। পিস্তল আতিক ও সাব্বিরের হাতেও ছিলো। ওরাও পিস্তল তাক করলো ডিউকের দিকে। রিয়াজের হাতে ডাল। পিস্তল মনে করে সে-ও তাক করে ধরলো ডিউকের দিকে।


***লেখক পরিচিতি

মোঃ সামছুজ্জামান ভূইয়া অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ২০১৯-এ অবসরে গিয়েছেন। রানা জামান নামে লেখালেখি করছেন। প্রথম কবিতার বই-এর প্রকাশ ১৯৯৯ খৃস্টাব্দে। এ পর্যন্ত ৯৬টি বই বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। 

নিজ জেলা: কিশোরগঞ্জ, বাংলাদেশ।

লেখকের উল্লেখযোগ্য বই: 

ক) ছোটগল্প: ক্রীড়নক, পুষি বেড়ালের বিদ্রোহ,

খ) অণুগল্প: অল্প কথার গল্প-১ ও ২

গ) কাব্য: তোমার নয়ন কাকচক্ষু জল(সনেট), 

ঘ)উপন্যাস:বৃক্ষমানব; রোবো সক্রেটিস, 

ঙ) ছড়া: ছোটদের-আগডুম বাগডুম, জল পড়ে পাতা নড়ে, ইত্যাদি; বড়দের-ছায়া চুষে কায়া, একান্ত শিশিরগুলো, 

চ) মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক: ছোটগল্প-একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের গল্প 

উপন্যাস-গেরিলা, উত্তাল একাত্তর, মুক্তিযোদ্ধারা কখনো হারে না, 

ছ) ছোটদের বই: ভূতের কাণ্ডকারখানা, পোড়োবাড়ির ভূত, 

জ) ইংরেজি: Lost Love Twinkle Rhymes।

No comments:

Post a Comment

বাঁশবাগানের ভূত -- সাবিত্রী দাস

বাঁশবাগানের ভূত সাবিত্রী দাস আজ যে এত দেরী হয়ে যাবে কে জানতো! পরের হাটবারে ভোর থাকতে বেরোলে দুধ বেচে ঠিক সময়ে  ফিরতে পারবে পানুর...