Saturday, 4 June 2022

রাখাল-- বিদ্যুৎ মিশ্র


রাখাল
বিদ্যুৎ মিশ্র

সকাল থেকেই রাখাল ঝিম মেরে বসে আছে , কিছুই ভালো লাগছে না। এই তো কিছুদিন আগেই ব্যানার্জি দের বাগানে কি মিষ্টি মিষ্টি আম পাওয়া যেত। দুপুরবেলা বেশ সময় পার হয়ে যেত।এখন তো আর কিছুই নেই। বেনেদের পুকুরে মাছ ধরার প্ল্যান করেও সেই যে ক্যালানি খেতে হলো, চুরি থেকে অবসর নিয়ে ভাবছি হিমালয়ে গিয়ে সন্ন্যাসী হয়ে জপতপ শুরু করি। বছরে একটা সময় গ্রামে ফিরলে বেশ সম্মানও জুটবে আর দুই পয়সা আমদানি হবে। কিন্তু তাতেও তো হ্যাপা কম নেই। তাই এখন স্রেফ বেকার হয়ে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

হঠাৎ বাইরে থেকে অপ্রকাশিত ভাবে একটা হট্টগোল শোনা যেতেই রাখালের কান গুলো খাড়া হয়ে উঠলো।কে যেন বেশ উত্তেজিত হয়ে ঝগড়া করছে।

ব্যাপার সুবিধাজনক নয়। একটু দেখতে হচ্ছে, ব্যাপার খানা কি ? রাখাল বেরিয়ে পড়ল । সামনে গিয়ে দেখে, একজন অর্ধবয়স্ক লোক তার গাড়ির কাছে বসে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে । আর পাশে একজন মহিলা চিৎকার জুড়ে দিয়েছে। রাখাল কাছে যেতেই মহিলা টি আরও সুর তুলে বলতে শুরু করলো, এই দেখ বাবা আমারে মেরে ফেললে। সোজা গাড়ি এসে ঠুকে দিলে। একটুর জন্য মারা পড়তাম।

এই সব সময় রাখালের শয়তানি বুদ্ধি একটু বেশি চলে। সে সোজা লোকটির কাছে গিয়ে গলা নামিয়ে বললো।

_দাদা খুব খারাপ ফেঁসে গেছেন আপনি। এর ডাক শুনে যদি গ্রামের আরও জনা দশেক লোক হই হই করে ছুটে আসে। আগে আপনাকে মেরে ফেলবে। পাবলিকের মার তো শুনেছেন। একটা লাথিও নিচে পড়বে না।

লোকটি ভীষণ ভয় পেয়ে আছে। সে কি বলবে। রাখালের পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল ।

_এই যাত্রা কিছু করেই হোক বাঁচান দাদা। সারাজীবন এই উপকার ভুলবো না।

রাখাল এই সুযোগ টাই খুঁজছিল । এই বার একটা বিজয়ের হাসি হেসে বললে

_ঠিক আছে, আপনি আমার কথা মতো চলুন। আর কিছু গাঁটের টাকা খরচ করুন তো দেখি।

তারপর বেশ ভালো মানুষ সেজে বুড়ির কাছে গিয়ে বললো। কাকিমা চিন্তা নেই

 আমি আছি। কিছু টাকা কামিয়ে আর হাসপাতালে আপনার চিকিৎসা করিয়ে তবেই ছাড়বো । তবে হ্যাঁ, আমার একটা কমিশন চাই।

মহিলা সঙ্গে সঙ্গেই রাজি। সেও এইটাই চাইছিল।

তারপর কথামতো মহিলা কে গাড়ি চাপিয়ে একটা সরকারি হাসপাতালে থেমে নিজেই আগে নেমে গেলো। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে বললো। সব রেডি করে রেখেছি,  তারপর বেশ যত্ন সহকারে মহিলাকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো। খুব খাতির যত্ন করে একটা ইমার্জেন্সি রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে এসে লোকটিকে বললো।

মশাই এবার আপনার বিপদের হাত থেকে বাঁচার জন্যে মূল্য রাশি বার করুন।

_কতো টাকা?

_পুরো পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। ওনার কোমরে ফ্রেকচার হয়েছে তো। এক্স রে থেকে শুরু করে এখন তিন মাস বিছানা থেকে উঠতেই পারবে না। তাই

লোকটি বেশ ভয় পেয়েই ছিলো। বেশি কথা বাড়ালো না। পকেট থেকে নগদ টাকা বার করে রাখালের হাতে দিয়েই গাড়ি স্টার্ট দিলো। রাখাল হাত বেড়ে বিদায় জানিয়ে সাবধান করে দিলো এখন কিছুদিন যেন এই রাস্তায় না আসে,নইলে সমূহ বিপদ।

তারপর উল্টো রাস্তা ধরে একটা পকোড়ির দোকানে নিমেষে ঢুকে পড়ল । শুনেছি দুই মাস আর তাকে দেখা পাওয়া যায়নি। আর বুড়িটা? সে হাসপাতাল থেকে তখুনি ছাড়া পেয়ে গেছিল, কিন্তু এখনো রাখাল কে খুঁজে বেড়ায়।

*কবি পরিচিতি

বিদ্যুৎ মিশ্র বাংলা শিশু সাহিত্যে একটি পরিচিত মুখ।পিতা শ্রী নেপাল চন্দ্র মিশ্র ও মাতা স্বর্গীয় মীরারানী মিশ্র। প্রথম কবিতা প্রকাশ কেকা পত্রিকায়। শূন্য দশকের প্রথম থেকেই  “দিশা” নামে একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত থেকে বাংলা ও বাংলার বাইরের বিভিন্ন ছোটো বড়ো পত্রিকাতে নিয়মিত ছড়া, কবিতা ও গল্প লিখে আসছেন।এ যাবত বাইশটি  বই প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে ও পাঠক মহলে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে  ।বিভিন্ন পত্রিকা ও সংস্থা কতৃক পেয়েছেন একাধিক  সন্মাননা ও পুরস্কার।


 

 Bidyu

No comments:

Post a Comment

বাঁশবাগানের ভূত -- সাবিত্রী দাস

বাঁশবাগানের ভূত সাবিত্রী দাস আজ যে এত দেরী হয়ে যাবে কে জানতো! পরের হাটবারে ভোর থাকতে বেরোলে দুধ বেচে ঠিক সময়ে  ফিরতে পারবে পানুর...