শিখা মালিক
নদী থেকে কিছু টা দুরে দুর্গ টা অনেক পুরানো অনেক লতাপাতা ঘেরা,কোথাও আবার দেওয়ালে গায়ে গায়ে বট গাছের চারা। অনেকটা মাঠ পেরিয়ে খেলতে আসে ন্যাপলা বুধো গবা হরি।
দুর্গের ভিতর অনেক ফলের গাছ ফল পেকে পড়ে থাকে কেউ কুড়ায় না।গবার দাদু বলে ওখানে ভূত আছে তাই কেউ যায় না। গবারা চুপি চুপি দুপুর বেলা চলে আসে ,অনেক আম পড়ে আছে ওরা কুড়ায় আর খায় গবা বলে ন্যাপলা চল কে যেন গেট বন্ধ করছে ।ন্যাপলা বলে এখানে কে আবার বন্ধ করবে আবার একটা অদ্ভূত শব্দ দুর্গের ভিতর তখন ওরা ভয় পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে আসে।
কদিন পড়ে গবারা দেখলো বড় বড় গাড়ি এসেছে দুর্গ টার সামনে ,গবা বলে ও হরি দেখ লাঠি লাগানো ওগুলো কি রে! হরি ফোকলা দাঁতে আম খেতে খেতে বলে ও তো ক্যামেরা ।একটা সুন্দর দেখতে মেয়ে মাথায় টুপি চোখে কালো চশমা হাঁটু পর্যন্ত জামা পরে গাড়ি থেকে নেমে এদিক ওদিক দেখতে দেখতে ন্যাপলাদের সামনে,ওদের জিজ্ঞাসা করে -"তোদের কোথায় বাড়ি"?।ন্যাপলা বলে উই মাঠ পেরিয়ে ,কিন্তু তোমরা কি করতে এয়েচো গো? সুন্দরী বলে - সিনেমার শুটিং করতে ।গবা তখন বলে ওঠে ও দিদিমনি ওখানে ভূত আছে ।নায়িকা বলে আমরা ভূতের সিনেমা করতেই এসেছি,ন্যাপলা নাচতে থাকে কি মজা কি মজা সিনেমা হবে, সন্ধ্যা হয় ছেলেরা গাঁয়ে ফিরে আসে দুর্গে তখন শুটিং শুরু হয় ওরা যখন মেকাপ নিচ্ছিল তখন কয়েকজন মেয়ের হাসির শব্দ শুনতে পায় ,সবাই খোঁজাখুঁজি করে কিন্তু ওখানে সেরম কাউকে দেখতে পাওয়া যায় না ওরা শুটিংয়ে মন দেয় দোতলার জানালায় সাদা শাড়ি পরে খোলা চুলে নায়িকা গান গাইছে নীচে বাগানে দাঁড়িয়ে বিভোর হয়ে দেখছে রাজা বেশে এক অভিনেতা । আচমকা সব লাইট নিভে যায় একটা বিকট চিৎকার কেউ যেন নায়িকাকে ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দিল।রাতের অন্ধকারে সব গাড়ি অচেতন নায়িকাকে নিয়ে শহরে চলে গেল।দুর্গের পাশে ক্যাম্পের সামনে একটা ব্যানার সাদা শাড়ি পরে খোলা চুলে নায়িকা হাসছে দেখে ন্যাপলারা শুধুই কাঁদছে।
No comments:
Post a Comment