--প্রেরণা বড়াল
সঞ্জয়দের ঘর থেকে সমরদের ঘর বাই কার ঘন্টা চারেকের রাস্তা।
প্রায় দশটা নাগাদ বেরিয়েছে। ঘরে ফিরতে কমপক্ষে দেড়টা- দুটো বেজে যাবে সমরের । তার থেকে বেশি ও হতেপারে।সেই সকাল থেকে হসপিটাল, মর্গ,শ্মশান,এই সব করতেই এতো টা দেরী। বেশ ক্লান্ত সমর।
কি আর করা যায়। বন্ধুকে একটু সান্ত্বনা দেওয়া, ওর পাশে থাকা টা তো প্রয়োজন। সঞ্জয়ের বোন শুধু সুন্দর নয়, অপূর্ব সুন্দরী ছিল। আর সেই সংগে ছিল প্রচণ্ড সাহসী ও অহংকারী। তার অন্ত এতো ভয়ংকর হবে ভাবাই যায় না। মুখটা এসিডে পুড়ে - এমনি বীভৎস দেখাচ্ছিল তা বর্ণনার অতীত। গালের মাংস যেন খসে পড়ছে। নাকের হাড় পর্যন্ত ঝলসে গেছে। চোখের সাদা অংশ টুকু ছাড়া কিছু ছিল না। মুখের ঠোঁট ছাড়া দাঁত গুলি- না, আর ভাবতে পারছে না সমর।
হঠাৎ সমরের মনে হল কেউ গাড়ি থামাতে বলছে। একটু এগোতেই- হা,ঠিক দেখেছে সে।
গাড়ি থামাতেই একটি মেয়ে লিফট চাইলে।
"মন্দ নয়, এতক্ষণে জার্নিতে জান এল।" মনে মনে ভাবল সমর ।
সমর- "ওকে আসুন। এতো রাতে--এই সুনসান জায়গায়--চারদিকে শুধু জঙ্গল আর জঙ্গল।পোকামাকড় আর হিংস্র জানোয়ারের সাথে সাথে মানুষের ভয় ও কিছু কম নয় ।একা বেরিয়ছেন, ভয় হচ্ছে না"?
নিরুত্তর।
সমর আগে বলতে লাগল- একটু ভয় থাকা ভালো----আপনার ই মতো একটা সাহসী মেয়ের শেষ কাজ করে ফিরছি।কতো ভালো-- সুন্দর মেয়ে, তার মর্মান্তিক মৃত্যু হল। জানেন তো, এসিডে মুখটা পুড়ে এমনই কুৎসিত আর ভয়ংকর হয়েছে,যা কি বর্ণনা করা সম্ভব নয় ।
মেয়েটি বলল, "এইরকম?"...
ঘেউ--ঘেউ ---ঘেঊ---
সমর সম্বিত ফিরে পেল।দেখল কারের দরজাটা খোলা। সেই দিকে তাকিয়ে তিন চারটে কুকুর সমানে ডেকে চলেছে। দরজা টা বন্ধ করতে গিয়ে অনুভব হল, শরীরটা যেন পাথর,নাড়াতে পারছে না। পা ব্রেকে আটকে গেছে। বহু কষ্টে কারের দরজা টা বন্ধ করে, গাড়ি স্টার্ট করল সমর।
No comments:
Post a Comment