Saturday, 4 June 2022

ভুতপ্রেত কেনাবেচার ভূতহাট " -- প্রদীপ দে


   
 " ভুতপ্রেত কেনাবেচার ভূতহাট "
  প্রদীপ দে

পাঁঠার ঝোল আর রুটির ডিনার সারলাম আজ রাতে। খেয়েদেয়ে হজম করতে সামনের বাগানে পায়চারি মারতে শুরু করে দিলাম। কি ভালো না লাগছে! ফুরফুরে বাতাসটা আমার হাতের আঙুলের মাংসের গন্ধ মেখে আমায় জানান দিচ্ছে আমি কতই না বড় লোক! না হলে এই বাজারে কেউ দুবেলা পাঁঠার মাংস খায়? কিন্তু আমি খাই -- আমি হলাম গিয়ে বংশধর হালুই।

আমার বংশধরেরা একেবারে সোজা সহজ সরল ছিল না, উল্টে তারা মানুষ ছিল ভীষণই জটিল। সব সময়েই লোকের ক্ষতি করা,লোকের জমি জমা সম্পত্তি ভুলিয়ে ভালিয়ে অথবা বিপদে ধার কর্জ দিয়ে শেষে গায়েব করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এরকম করে জমিদারি রাখা এবং সম্পত্তি বাড়াতে তারা ছিল সিদ্ধহস্ত।
আমিও যেন তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করি তাই আমার নামেই বংশধর লাগিয়ে আমাকে তাদের পালকযুক্ত করেছিল। সত্যি কথা বলতে ভয় নেই।আমি আমার গুনের বংশের কথা অকপটে স্বীকার করে নিলাম।

ভাবার সময় পেলুম না সামনেই জ্যাঠামশাই লাঠি হাতে জ্যাঠামি হাসি হেসে চলেছে। আমি অবাক। জ্যাঠার আগমনে। কোথা দিয়ে উদয় হলেন কে জানে? 
--  কিরে বংশ কেমন আছিস? সামনেই তো ভোট?

--  হ্যা হ্যা করে গাল ভর্তি হাসি এলো। শালা গুরুজন এসে গেল। তবুও --
--  তুমি এখন কোথা দিয়ে? মুক্তি হয়নি তোমার?

--  দূর শালা কেউ তো এখনো কিনলো না -- সবাই টিপে -টাপে চলে যায়। দাম দেয় না -সব কিপ্টের দল!

--  সে  আবার কি কথা?  ভূতকে কেউ কিনবে নাকি? মুক্তির সংগে তার যোগই বা কি?

--  হ্যাঁ রে তোর দেখছি এখনো বুদ্ধি হয়নি! আমাদের বংশধর হিসাবে তোকে মানায় না। দেখছিস না চারিদিকে কিরকম নেতা কেনা বেচা চলছে?

--  আরে তার সংগে ভূতের কেনা -বেচার কি সম্পর্ক?

--   আরে শোন ভোটে নেতার মত ভূত ও কেনাবেচাও চলে সমান তালে।

--  সেটা আবার কি?

--  দেখতে চাস?  চল আমার সংগে হাটে ---

জ্যাঠা মানেই ভূত। আর ভূতে ধরলে রক্ষা নেই। পিছু নিলাম, না পা দুটো ওঁর পিছনে এগিয়ে গেল, বুঝলাম না। কিছুটা যাওয়ার পর অন্ধকার একটি মাঠ পেলাম। সেখান থেকে কলরব নেকী সুরে গান আর ঢপাস ঢপাস ঢেপসি নাচের আওয়াজ পেলুম।অনেক ভিড় -- সকলের চোখে যেন টুনি বাতি চকমকিয়ে জ্বলছে।

জ্যাঠা বললে -- এটা ভূতহাট - ভূতমাঠ।

প্রথমদিকে ভয় পেলেও পরে আশস্ত হলাম - চেনা জন সবাইকে দেখে। আমার পূর্বপুরুষ প্রায় সকলেই আছে প্লাস আমার জানাশোনা মৃতরা!
আসল কথা বদমাশেরা সকলেই আছে যাদের কপালে, পাপকর্মের ফলে, এখনো মুক্তি জোটে নি

ভূতপ্রেত ছাড়া আমার মত অনেক লোক থলে হাতে বাজার করছে। কি বাজার?
-- সব ভূত প্রেত পেত্নী দক্ষ -দানব এই সব।
মানুষের মধ্যে আমিই একা যার হাতে থলে নেই।
মানে আমিই একমাত্র যে এই বাজারের হদিশ জানতাম না। 
যা হবার হয়েছে  যাকগে,-- এসেছি যখন একটঘুরে দেখি ---

অবাক কান্ড ---
তান্ত্রিকেরা বস্তা করে ভূত পেত্নী কিনেছে এবং বেশ কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করেই। একজন সাইকেলে ভূতে ভর্তি বস্তা বাঁধছিল, ধরলাম -- দাদা এগুলো কি কাজে লাগবে? ভয় লাগে না?

--  হা হা হা --- হেসে উঠলেন ক্রেতা -- না না দাদা ভূতে ভয় নাই -- ভূত ভাল। ওদের দিয়ে মানুষের অনেক উপকার হয়। তুক -তাক বশীকরণ আরো কত কি! আর মানুষ?   ছ্যা - ছ্যা মানুষ?  ওদের দিয়ে কোন কাজ হয় না, শুধু ক্ষতি করতে জানে।

আরো কিছু রাজনৈতিক দলের লোকজনদের দেখলাম -ভূত কিনছে।
জিজ্ঞাসা করলাম -- দাদা ভূত প্রেত কেন কিনছেন?

-- দাদা -সামনে ভোট। নেতার সঙ্গে সঙ্গে  ভূতও কিনে ষ্টক রাখতে হচ্ছে। ওরাই তো আমাদের শেষ অস্ত্র, শেষ ভবিষ্যৎ!

আমার দাদুকে একজন কিনলো। মৃত আত্মীয়রা দেদার দামে কয়েক মাসের চুক্তিতে বিকিয়ে গেল।

ভূতের ভূতুড়ে হাটে -- মৃতজনেরা মরার পর হা - পিত্তেস করে বসে থাকে নিজেদের দাম গুনে বিকিয়ে যাওয়ার আশায়!

আমি মানুষ হয়ে লজ্জায় ফিরে এলাম -- মানুষের  কোন দাম নেই দেখে -- আবার ভূতেদের না কিনে না উপকার করে, ওদের কোন কাজে না লাগতে পেরে। লজ্জায় মাথা নত হয়ে গেল!
-----------------------------------------------


***পরিচিতি :
লেখক নেশায় লেখে। অবসর জীবন।  বয়স -৬৩ । বিবাহিত। নিজের লেখা বই আছে। অনেক পত্রিকায়  লেখা প্রকাশ পায়। বিদেশের পত্রিকায় লিখি।

প্রদীপ কুমার দে
বিরাটী আবাসন
এল আই জি -৯
এম বি রোড
নিমতা
কোলকাতা -৭০০০৪৯
মোবাইল -৮০১৭২৬৭৬২৬

PRADIP KUMAR DEY
Birati Housing Estate
LIG - 9
M.B.ROAD.
NIMTA
KOLKATA - 700 049
West Bengal
INDIA
Mobile - 8017267626 ( Whatsapp)

অলৌকিক উপস্থিতি--দীপঙ্কর চৌধুরী


অলৌকিক উপস্থিতি--
                                                                   দীপঙ্কর চৌধুরী

রথীন বিশ্বাস কর্মযোগের কারণে কলকাতার একটি শ্মশানের নিকট এক পুরনো তিনতলা পাকা বাড়িতে একাই বসবাস করত। সেখান থেকে তার অফিস কয়েক মাইল দূরে। প্রতিদিনই রথীন বাবু বাড়ি থেকে অফিস যাতায়াত করতেন। তবে রথীন বাবু যে বাড়িতে থাকতেন সেখানে একজন বৃদ্ধ চাকর রবীন খুড়ো তাঁর দেখাশোনা করতেন। কিন্তু ওই রবীন খুড়োকে দেখতে একটু অদ্ভূত রকম ছিল। যেমন তাহার চোখ দুটো ছিল টকটকে লাল, চুলগুলো ধপধপে সাদা, দাড়িগুলো প্রচন্ড বড়ো দাবড়া দাবড়া ও হাত এবং পায়ের নখগুলো হিংস্র পশুর মতন। অফিসের কাজের চাপে রথীন বাবুকে প্রায়ই  মধ্যরাত্রিতে বাড়ি আসতে হতো। তবে যে পথ দিয়ে তিনি বাড়ি ফিরতেন সেই পথটি ছিল ঘন অরণ্যে বেষ্টিত। বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়া সেরে রথীনবাবু বৃদ্ধ চাকরের সঙ্গে গল্প গুজবে বসতেন। বৃদ্ধ চাকর রবীন খুড়ো রথীন বাবুকে বলতেন সেই বাড়ির নিকট যে শ্মশানটি রয়েছে, সেই শ্মশানটি তে একটি আত্মার উদ্ভব ঘটে ঠিক মধ্যরাত্রিতে। আর ঠিক ঐ দিনই যখন রাত্রি একটা বেজে তিরিশ মিনিট তৎক্ষণাৎ ওই সময় শ্মশানটি থেকে এক উচ্চ আর্তনাদ ভেসে আসছে। এবং তার কাছাকাছি তে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। হঠাৎ করে রথীন বাবুর নিদ্রা ভাঙ্গে। তিনি তার কক্ষের দক্ষিণ জানালা দিয়ে লক্ষ করেন এক অদ্ভূত আকারে একজন বৃদ্ধ ঘন সাদা পাঞ্জাবী পোশাকে ওই নির্জন স্থানে থেকে হাঁক দিচ্ছেন “রথীন তুমি কোথায়?" রথীনবাবু একেবারেই হতভম্ব। মুখশ্রীতে চিন্তিত ভাব ক্ষণিকে তার মাথা থেকে ঘাম ঝরে চলেছে অবিরত। হাত-পা কেঁপে চলেছে। কিন্তু রথীনবাবু অত্যন্ত সাহসী ব্যক্তি ছিলেন। তাই তৎক্ষণাৎ তিনি দ্রুত বেগে গমন করেন ওই অদ্ভুত আকৃতির বৃদ্ধর নিকট। যখন তিনি সেই শ্মশানে পৌঁছালেন তখন দেখতে পেলেন ক্ষণিক পূর্বে যে লোকটি “রথীন তুমি কোথায়?" বলে আর্তনাদ করছিল সে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল। যেনো, সে ছিল কোন এক আত্মা। আর তার উপস্থিতি ছিল আলৌকিক। পরদিন সকালে রথীনবাবুর যখন ঘুম থেকে উঠলেন তখন সেই চাকরটি তাকে বলল- গতকাল রাত্রে মনে হয় ওই শ্মশান থেকে কেউ আপনার নাম ধরে ডাকছিল যে- “রথীন তুমি কোথায়?" মনে হয় যেন ওই বৃদ্ধ চাকর তিনি উপস্থিত ছিলেন ঘটনা সময়ে। রথীনবাবু উত্তরে জবাব দিলেন- হ্যাঁ ছিল। তবে আমি যখন তার নিকট যাই তখন উনি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যান। কথাটি বলেই তিনি অফিসের পথে অগ্রসর হলেন। এবং অফিস যাওয়ার পথে তিনি পাশের বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন যে বাড়িতে রথীনবাবু বসবাস করেন সেই বাড়িতে নাকি কেউ থাকেনা। তবে গত চোদ্দ দিন পূর্বে একজন বৃদ্ধ মারা যান। তিনি অবশ্য সেই বাড়িতে চাকরের কর্মে কর্মরত ছিলেন। কথাটি শোনার পর রথীন বাবু আরও একবার হতভম্ব হয়ে পড়লেন। তিনি একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে পড়লেন। এবং সেদিন অফিস না গিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন। বাড়ি এসে দেখলেন যে, এই বৃদ্ধ আর বাড়িতে নেই। রথীনবাবু বৃদ্ধকে চারিদিকে খুঁজলেন কিন্তু কোথাও তার দর্শন পেলেন না। তিনি ভাবলেন বৃদ্ধ হয়তো সত্যিই আর নেই। হয়তো বৃদ্ধ রবীন খুড়ো তার আত্মার শান্তির জন্য ওই বাড়ির প্রতি নিজের মায়া দূরীভূত করার জন্য ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন গত চোদ্দ দিন ধরে। এরপর রথীনবাবু মানসিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন। এবং তিনি ভাবতে থাকেন ওই বুড়ো এতদিন তার নিকট ছিল কিন্তু কদাপি তার কোনোরূপ ক্ষতি পর্যন্তও করেনি। আবার তার নিকট সে সত্যিই একজন চাকরের মতন ছিল। বরং তার সর্বদা ভালোই চেয়েছিল। তাই রথীনবাবু বৃদ্ধ চাকর রবীন খুড়োর আত্মার শান্তির জন্য তাঁর শ্রাদ্ধ করলেন। এবং পরিশেষে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করলেন।

সম্পাদকীয়--


সম্পাদকীয়--

যদি প্রশ্ন করা যায় আমাদের মনের মধ্যে ভয়ের ব্যাপারটা কোথা থেকে এলো? আসলে মৃত্যুই তার প্রধান কারণ। মানুষ মরণশীল, জগতের সব প্রাণীর পরিণতি হল মৃত্যু । মানুষের কাছে মৃত্যু হল সবচেয়ে রহস্যময় । আমরা আছি, নেই, আজ আছি, কাল নেই আর এই মৃত্যুর পর মানুষের অবস্থান, পরিণতি কি ? আত্মার কি আদৌ কোন অস্তিত্ব আছে ? মুনি ঋষিদের প্রজ্ঞা-জ্ঞান এ ব্যাপারে অনেক কিছু উজাগর করেছে। তাদের মতে, আত্মা অজর, অমর। মানুষ দেহ ত্যাগ করে, দেহ নশ্বর কিন্তু আত্মা অমর আর এই আত্মাই নাকি নামান্তরে ভূত বলে পরিচিত। আর ভুতের অলৌকিক কিছু শক্তিও নাকি আছে। ওরা রূপ বদলায়, রূপান্তরিত হতে পারে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারে, দোষীকে শাস্তিও দিতে পারে। অনেক অলৌকিক শক্তির অধিকারী এরা-- ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সঙ্গে মানুষের জন্মান্তরবাদও একটা বড় রহস্য।

অলৌকিক প্যারানরমাল ব্যাপারটা বড় রহস্যের সঙ্গে সঙ্গে বড় রোমাঞ্চকরও বটে। অনেকে বলেন, ভয় থেকে ভুতের জন্ম। ব্যাপারটা অনেকাংশে সত্য। 

মানুষ যদি ভগবানকে বিশ্বাস করতে পারে তবে ভূতকে নয় কেন? হ্যাঁ ভূতের সংজ্ঞা অনেক রকম হতেই পারে-- অশুভ শক্তি, দেবতার পাশাপাশি অত্যাচারী রূপী আসুরিক শক্তি এগুলি সবই তো প্যারানরমাল বা অলৌকিকতা ধর্মী। তবে একটা কথা লক্ষ্য করার মত যারা ভূত বিশ্বাস করেন না তাদের অন্তরে ভূতের ভয় বেশী থাকে। 

আসলে ওই মৃত্যু রহস্যের মাঝেই এ সব মিরাকেল লুকিয়ে আছে। মৃত্যু জীবনের এক চিরন্তন সত্য, এ দিকটাকে কেউ অগ্রাহ্য করতে পারে না। 

আমাদের এবারের সংখ্যা, ভূত-ভৌতিক সংখ্যা। মানুষ মাত্রেই এ বিষয়টির ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপেক্ষাকৃত বেশি উৎসাহী।  কাল্পনিক স্বপ্নালু সে সঙ্গে ঘটনার মধ্যে অলৌকিক চমৎকারী কিছু মিশে গেলে আমাদের আগ্রহের কোন অন্ত থাকে না। 

এ সব নানা কথা ভেবে আমরাও বর্তমান সংখ্যা ভূত-ভৌতিক বিষয় নিয়ে তৈরি করেছি। বর্তমান সংখ্যাটি আপনাদের সবাইকে পড়ে দেখতে অনুরোধ জানাই। আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য আমাদের পথ প্রদর্শনে সাহায্য করবে। 

এ প্রসঙ্গে আরও একটা কথা জানিয়ে রাখি, আমাদের পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাগুলি আগে-পরে সাজানোর ক্ষেত্রে কোন আলাদা পরিকল্পনা থাকে না। ভালো লেখা বা ভালো লেখক পত্রিকার শুরুতে স্থান পাবেন এমন কোন ভাবনা আমাদের নেই--বেশিরভাগটুকু আগে-পরে পৌঁছনোর ক্রমানুসারে সাজানো হয়। আমাদের পত্রিকায় নামিদামি লেখকরা যেমন আছেন তেমনি আগামীর সম্ভাবনাকেও ধরে রাখার জন্য অনামী, নবীন লেখকরাও আছেন। আজ এ পর্যন্ত--নিবেদন ইতি--তাপসকিরণ রায়।

সহ- সম্পাদকের কলমে:

আমাদের নিত্যদিনের চেনা শোনা জগতের   বাইরেও  যে একটা অজানা অদেখা জগত আছে, একথা অনেকেই  বিশ্বাস করেন। অনেকে আবার এসব বিশ্বাস করতে চান না। আছে আর নেই এ বিষয়ে অদ্যাবধি তর্কও বড়ো কম হয়নি। পারলৌকিক জগতে বিশ্বাসকে দৃঢ় করতেই হোক বা অজানা তথ্য আহরণের জন্যই বসেছেন প্ল্যানচেটে
 বিশ্বাস আর অবিশ্বাস যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। আবার এটাও ঠিক এমন অনেক ঘটনা ঘটে থাকে যার ব্যাখ্যাও যুক্তি বুদ্ধির অতীত।
এবারের  বিষয় হলো ভূত- ভৌতিক- অলৌকিক। অজানা-অদেখা অতীন্দ্রিয়  জগতের গল্প। ভূত আছে কী নেই, এ নিয়ে যতই বিতর্ক থাক না কেন ভূত বা ভৌতিক জগত সম্বন্ধে মানুষের কৌতূহলও কিছু কম নয়! আবার লৌকিক বিশ্বাসের বাইরেও যে কিছু শক্তি ক্রিয়া করে অর্থাৎ অলৌকিক ঘটনাবলী সম্পর্কে ও মানুষের আগ্রহের সীমা পরিসীমা নেই।
তবে ভূতের অস্তিত্বটুকুও যে ক্রমশ বিপন্ন হয়ে আসছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। না আছে আশ শ্যাওড়ার ঘন জঙ্গল না কোন পোড়ো বাড়ী। শ্যাওড়া গাছের ডালে পা ঝুলিয়ে বসে থাকা পেত্নীরাও একপ্রকার বাধ্য হয়েই এখন ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। প্রমোটারের কল্যাণে এ সমস্ত অবলুপ্তির পথেই বলা যায় ,যদিও বাঁশবাগানের বাঁশঝাড় গুলি এখনো সম্পূর্ণ রূপে তেনাদের  হাতছাড়া হয়নি। ভূত নিয়ে তর্ক বিতর্ক যারা করে করুক, ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে যাদের সন্দেহ থাকে থাক, ভূতের গল্পের অস্তিত্ব বজায় রাখতেই হবে। দেশে বিদেশে সাহিত্য জগতের অনেকটা জুড়েই রয়েছে  ভৌতিক জগতের সাম্রাজ্য।  
      শুধু মাত্র শিশু কিশোর সাহিত্য  নয়, বড়দের অনেক পত্রিকাই ভূত বিষয়ক সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে।
        এবারের অণুগল্প গুলির মধ্যেও এবারে  ভূতেরাই না হয় বিচরণ করুক স্বচ্ছন্দে ।-- সাবিত্রী দাস।

অভিশপ্ত ব্রীজকলমেঃ স্বপ্না মজুমদার পুনা (মহারাষ্ট্র)


অভিশপ্ত ব্রীজ
স্বপ্না মজুমদার, পুনা (মহারাষ্ট্র)


নীরা আর সঙ্গীতা কলকাতায় পড়াশোনা করে প্রথম চাকরির প্লেসমেন্টে পুনা শহরে এলো।দুজনেই এক কলেজ থেকে পাশ করেছে।পুনাতে প্রথম প্লেসমেন্ট পেয়ে দুজনেই খুব খুশি। খুব যে বিশেষ বন্ধু ওরা,,তেমন নয়। তবে অচেনা শহরে দুটি বাঙালি মেয়ে বেশ ঘনিষ্ঠ হওয়ায়, বন্ধুত্ব হয়েছে এখন। হাওড়া থেকে আজাদ হিন্দ ট্রেনটিতে আরো অনেক বাঙালি ছেলে মেয়ের সাথে আলাপ হয়েছিল নীরা আর সঙ্গীতার।
এখানে এসে একটি মেসে দুজনে থাকবে ঠিক করেই এসেছিল। সেই মতো নিজেদের রুমটি ওরা গুছিয়ে গাছিয়ে নিল।দু,তিন দিন একটু এদিক ওদিক ঘোরাঘুরিও করলো। নীরা বলছিল,---জানিস তো এখানে কাছাকাছি অনেক দারুন দারুন জায়গা আছে,
ধীরে ধীরে ঘুরবো কেমন।
----- এসেছি তখন,ঘুরবো তো ঠিকই। তবে আগে অফিসে জয়েন করি। কি যে কাজ হবে বুঝতে পারছি না।
----- আমার অফিস তো বলেই দিয়েছে,,এখন তিন মাস রোজ যেতে হবে।তারপর ওয়ার্ক ফ্রম হোমে কাজ করতে হবে তবে,ওই দুদিন সপ্তাহে যেতে হবে মনে হয়।
----- সেই রে।দেখা যাক।কোভিডের পরে সব সিচুয়েশন ঘুরে গেছে।

দিন কয়েক পরেই দুজনেই অফিস জয়েন করে। আইটি ইন্ডাষ্ট্রির শহর এটা। চারিদিকে অনেক অফিস দাঁড়িয়ে আছে। দুজনেই মন দিয়ে কাজ করছে। সেদিন অফিস থেকে বেরোতে একটু দেরি হয়ে যায় দুজনের। বৃষ্টি শুরু হয়েছে।পাহাড়ি শহর।প্রচন্ড বৃষ্টি পড়ছে। অফিসের ক্যাবে দুজন শুধু। বেশ ভয় ভয় লাগছে। হঠাৎ রাস্তায় বড়ো গাছ পড়েছে দেখে ড্রাইভার বলে,-- থোড়া ঘুমকে যানা পাড়ে গা।ইয়ে রাস্তা তো বন্ধ লাগতা হ্যায়।
নীরা বলে,--- উও তো দেখা হমনে।চলিয়ে দুসরি রাস্তে সে।
ড্রাইভার গাড়ি অন্য রাস্তায় ঘুরিয়ে চালাতে শুরু করে।
একটা ব্রিজের ওপর দিয়ে চলতে শুরু করতেই দূর হতে
সাদা পোষাক পরা তিনজন,হয়তো স্বামী,স্ত্রী ও ছোটো বাচ্চা হবে। ওরা এগিয়ে আসতে থাকে,আর হাত দেখাতে থাকে লিফট চাই ওদের। নীরা বলে,--- এই বৃষ্টিতে ওরা বেশ বিপদে পড়েছে মনে হয়।ড্রাইভার,,আপ রুকিয়ে। লিফট দেনা হ্যায়।
ড্রাইভার বলে,--- নেহি,,ঠিক সে দেখিয়ে।উন লোগো নে ক্যায়সে আতে হ্যায়। উও ভূত হ্যায়। মুঝে জলদি যানা হ্যায়। রুকুঙ্গা নেহি।ইয়ে ব্রীজ মে কভি কভি আ্যয়সা হোতা হ্যায়,,শুনা হ্যায় ম্যায়নে।
----  শুনা হ্যায় তো,,ইধার আয়া কিঁউ?
---- ক্যায়া করু ম্যাডাম! যানে কে লিয়ে অর রাস্তা নেহি।
নীরা, সঙ্গীতা দেখে সত্যিই তো ওদের পা কোথায়?
ওরা যেনো উড়ে উড়ে আসছে। ভয় পেয়ে যায় ভীষন দুজনে।দেখে এতো বৃষ্টির মধ্যেও ওরা ভেজেনি।
ভীষন ভয়ে দুজনে দুর্গা নাম জপ করতে থাকে।
হঠাৎ পাশ থেকে একটা গাড়ি যেতে যেতে হাত ইশারায় বলে,--- জলদি সে যাইয়ে।
নীরা, সঙ্গীতা পিছনে তাকিয়ে দেখে ওই তিন মূর্তি খুব জোরে জোরে গাড়ির পিছনে দৌড়চ্ছে।
ড্রাইভার খুব দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে ব্রীজ পার হবার চেষ্টা করছে।
হঠাৎ  আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়,আলো ঠিকরে পড়ে।
বৃষ্টি আরো জোরে পড়তে থাকে। হঠাৎ দেখে গাড়িতে ড্রাইভার নেই।গাড়ি উর্দ্ধশ্বাসে দৌড়চ্ছে।
নীরা, সঙ্গীতা ভয়ে আড়ষ্ঠ।ফোন করতে থাকে চারিদিকে। পুলিশ স্টেশনে।
গাড়িটা জোর ধাক্কা মারে ডিভাইডারে।
নীরা, সঙ্গীতা রক্তাক্ত,অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকে গাড়ির মধ্যে।পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ড্রাইভারকে পাওয়া যায় মৃত অবস্থায় ব্রীজের নীচে।
বাড়ির লোক কলকাতা থেকে ছুটে আসে। অফিসের লোকজন আসে।সবাই বলাবলি করে, বেশ কিছু বছর আগে ওই ফ্যামিলিটা কার আ্যকসিডেন্ট করে এই ব্রীজে। সে সময় অনেক লিফট চেয়েছিল ওরা। কোনো গাড়ি সেদিন বর্ষার রাতে ওদের লিফট দেয়নি। পরে মধ্য রাতে ট্রাকের ধাক্কায় ওরা মারা যায়। সেই থেকে বর্ষা রাতে ওদের এভাবে কেউ কেউ লিফট চাইতে দেখেছে মাঝে মাঝে।লিফট দিতে গাড়ি স্লো হলেই ওরা গাড়িটাকে ব্রীজ থেকে ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দেয়। এভাবে এই ব্রীজে অনেক আ্যকসিডেন্ট হয়েছে।
নীরা, সঙ্গীতা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেও
ভয় ওদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। মনের সুস্থতার জন্য এখন ওরা দুজনেই  সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং করছে।ড্রাইভারের মৃত্যুটা বেশ রহস্য হয়ে রইলো।
বন্ধ চলন্ত গাড়ি থেকে  কিভাবে ব্রীজের নিচে গিয়ে পড়লো কেউ বুঝতেই পারলো না।হয়তো গাড়ির দরজা খুলে গিয়েছিল।।

***মহারাষ্ট্র, পুনা

লাখু গোয়ালার গরু-- ঋভু চট্টোপাধ্যায়


লাখু গোয়ালার গরু--                
ঋভু চট্টোপাধ্যায়



দরজাটা হাল্কা খুলে মুণ্ডুটা দরজার ভিতরে কিছুটা ঢুকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ডাক্তার সাহেব আসব?’ ডাক্তারবাবু মাথা তুলে একবার দেখে বললেন, ‘তুমি কে,সোজা আমার ঘরে, কি ব্যাপার?’

–এজ্ঞে আমি লাখু গোয়ালা,আমার লখির লগে এয়েছি।

–কি হয়েছে তোমার লখির?

-এজ্ঞে বাচ্চা দিবেক।

–বাচ্চা দিবেক তো ভর্তি করে দাও।

-এজ্ঞে ইখানেই গ্যাঁড়া, ভরতি লিছে নাই।

-কেন?

-এজ্ঞে টিকিটের লাইনে কত কথা, বাপের নাম শুধায়, মায়ের নাম শুধায়।

-তুমি তাদের নাম বলবে।

-ইখানেই গ্যাঁড়া, মায়ের নাম জানি, আদুরি, কিন্তু বাপের নাম তো জানি না।

–কেন? তোমার মেয়ে নয়?

-বিটির পারা বটে, কিন্তু বিটি লয়।

-তাহলে যার মেয়ে তার নামটা লিখে দাও, আর এখান থেকে যাও, আমার অনেক কাজ।

–উখানে তো নাম লিছে নাই।

-আচ্ছা আমি বলে দেব, এবার নাম নিয়ে নেবে।

তারপরেই মহকুমা হাসপাতালের সুপার বেল বাজিয়ে হাসপাতালেরর এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিকে ডেকে বললেন,‘এই পল্টু এই লোকটার কি হয়েছে একটু দেখে দিও তো।’ কর্মচারি ভদ্রলোক আচ্ছা বলে বেরিয়ে যাওয়ার মিনিট কুড়ি পরে এক্কেবারে হাঁপাতে হাঁপাতে সুপারের ঘরে এসে বলেন,‘স্যার লোকটা একটা গরু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে এসেছে, গরু নাকি বাচ্চা দেবে।’ কথাটা শুনেই সুপারের মাথার অবশিষ্ট চুলগুলো নিজেদের মধ্যে ঝগড়া ঝামেলা আরম্ভ করে দিল।এই হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর প্রতিদিনের নিত্য নতুন ঝামেলাতে মাথার চুল পঞ্চাশটাতে গিয়ে ঠেকেছে।ঝামেলা বলে ঝামেলা, জন্ম প্রমান পত্র থেকে মৃত্যু প্রমান পত্র, ডাক্তার থেকে জমাদার, মোক্তার থেকে ফোক্তার, ঝামেলা করতে কেউ বাদ দেয় না।এর পর রোগী থেকে ভোগি, পেসেন্ট পার্টি থেকে লোকাল পার্টি, ব্যান্ড পার্টি ও তো আছে।সুপারের অবস্থা এখন ছেড়ে দে মা ঘুমিয়ে বাঁচি।কিন্তু এসব কথা বাইরের লোককে বলা যায় না।তাই একটু ঝাঁঝ নিয়ে বলেন, ‘লোকটাকে ডাকো তো দেখি।’ ডাকতেই লাখু গোয়ালা হাজির।সুপারের দিকে তাকিয়ে একটা লম্বা পেন্নাম ঠুকে বলে, ‘বলেন স্যার।’

–তোমাকে এই হাসপাতালে গরু নিয়ে আসতে কে বলেছে?এটা কি গরুর হাসপাতাল?

-তা লয় জানি, কিন্তু আমাকে যে বললেক এখন মানুষের হাসপাতালে পশুদেরও চিকিৎসে হচে।

শেষের কথাটা শুনে সুপার রীতিমত রেগে উঠে বলেন, ‘কে বলেছে, এই কথা কে বলেছে শুনি।’

-এজ্ঞে আমার পুঁটিকে যে মাস্টার পেরাইভেট পড়ায়, সেই তো বললেক।

-তোমাকে বলে দিলে, আর তুমি অমনি নিয়ে চলে এলে।

-কি করব সার, আমি তো লেকাপড়া শিখি নাই, আমাকে যা বললেক তাই করলুম। বললেক, ‘লাখু কাকা, তুমার গরুর বাচ্চা দিবে, তুমি আমাদের মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে চলে যাবে।’ আমি অবাক হয়ে শুধারাম, ‘আমাদের হাসপাতালে আমার লখির চিকিৎসে করবেক কেনে?’ আমাকে বললেক, ‘তুমার আর বুদ্ধি হল নাই কাকা, কলকেতাই মানুষের হাসপাতালে কুকুরের টিরিটমেন্ট হইচে, আমাদের হাসপাতালে তুমার গরুর চিকিৎসে হবেক না কেনে?’

আমি বললুম, ‘নারে তুই আমাকে বোকা বানাচ্ছিস।’ আমাকে বললেক, ‘নাগো কাকা, তুমি এক কাজ কর, পঞ্চায়েত অফিস থেকে লিখিয়ে নাও।’

আমি সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পাড়ার ডালু বোসকে বললাম, দুদিন পর ডালু বোস কাগজ দিয়ে দিলেক, আমার লগে ভারি খাতির কিনা।শেষের কথাগুলো শুনেই সুপার রীতিমত অবাক হয়ে বলল,‘তোমাকে কাগজ দিয়ে দিলে?’

–লাখু বেশ স্বাভাবিক ভাবেই বলে, ‘হুঁ, দিবে নাই কেন? আমাদের গাঁয়ের বটে।’

রাগে তখন সুপারের মাথা ফুটতে আরম্ভ করছে।যথা সম্ভব মাথা ঠাণ্ডা রেখে বলে, ‘দেখি তো কাগজ টা।’

লাখু গোয়ালা পকেট থেকে কাগজটা বের করে সুপারের হাতে দিল।কাগজটা পড়ে সুপারের চোখ দুটো  খুলে পাশের গাছে চেপে যাওয়ার মত অবস্থা হল।কাগজের ভাষা সত্যি হলে গরুর নাম লক্ষী ঘোষ, বাবার নাম লক্ষণ ঘোষ।সুপার কাগজটা টেবিলে রেখে লক্ষণের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তুমি পড়াশোনা কর নি?’

–এজ্ঞে না, নুনু বেলাতে গেদে অভাব ছিল, পড়তে পারি নাই।

সুপারের অনেক কথা বলতে ইচ্ছে করলেও কিছু না বলে শুধু বলে, ‘দেখ এটা মানুষের হাসপাতাল, এখানে পশুর চিকিৎসা হয় না।’ লাখু বলে,‘কেনে, কলকেতার হাসপাতালে কুকুরের টিরিটমেন্ট হলে ইখানে গরুর হবেক নাই কেন?’

এই প্রশ্নে সুপার কি উত্তর দেবে বুঝতে পারছিল না,শুধু বলে,‘তোমাদের গ্রামে গরুর ডাক্তার যায় না?’

–যায় সার, তবে ভালো লয়, প্যাটে পুকার উষুধ দ্যায়, উসব খেলে গরুট গেদে লাদে,ইতিমধ্যে বাইরে একটা গোলমাল শুনে সুপার তার চেম্বারের বাইরে এসে দেখে হাসপাতালে ভিতরে সবাই একটা গরুকে নিয়ে অস্থির। গরুটাও হাম্বা হাম্বা করে ডেকে বেশ কয়েকটা ঘরে কিছু ক্ষয় ক্ষতি করে শেষে লেবার রুমে ঢুকে পড়েছে।কথাটা শুনে লক্ষণ লেবার রুমের ভিতর গিয়ে মিনিট দশ পরে হাসি মুখ নিয়ে বেরিয়ে বলে, ‘আমার লখির বকনা হইছে। গ্যাঁজলাটা কেটি গেলে আপনাকে খাঁটি দুধ খাওয়াবো।’

 

***Sougata Chatterjee
B1-85/1, V.K.Nagar, M.A.M.C, Durgapur-713210
Paschim Bardhaman
Phno- 6295919013
Email-wribhuwriter.dgp@gmail.com

ঋভু চট্টোপাধ্যায়
আসল নাম সৌগত চ্যাটার্জী। সরকারি স্কুল শিক্ষক। প্রকাশিত লেখা আনন্দবাজার, দেশ, সুখী গৃহকোণ, গৃহশোভা, তথ্যকেন্দ্র, প্রভৃতি বাণিজ্যিক পত্রিকা। মনকলম, দেখা, সহ বহু লিটিল ম্যাগাজিন। বাংলা লাইভ, উদ্ভাস সহ একাধিক অন লাইন পত্রিকায়। নিয়মিত লেখা বাংলা ও ইংরেজি দুটো ভাষাতে।

বাবা --দেবাশীষ চক্রবর্তী


বাবা --
দেবাশীষ চক্রবর্তী 
  
একটি বাংলা সংবাদ চ্যানেলের সাংবাদিক এষা রোজকার মতোই আজও রাত দশটা নাগাদ ট্রেন থেকে নামল। মাঘের প্রথম, বেশ ঠান্ডা। টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ায় পুরো কাঁপিয়ে দিচ্ছে । পরিকল্পনা করে এষা যে রাস্তা দিয়ে বাড়ি যায় তার সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। এষা প্ল্যাটফর্ম থেকে নামল চারদিকে অন্ধকার।
    স্টেশন থেকে তার বাড়ি হেঁটে যেতে মিনিট সাতেক লাগে।
অন্যদিন সে হেঁটে যায় আজ তার একটু ভয় ভয় করছিল। তা ছাড়া সঙ্গে ছাতাও নেই। দুটো টোটো দাঁড়িয়েছিল। ও জানে ওরা যাবে না। এক নেতার দুর্নীতি ফাঁস করে দেওয়ার পর টোটো আর অটো চালকদের স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, কেউ যদি এষাকে যাত্রী হিসেবে নেয় তা হলে সে আর এই রুটে গাড়ি চালাতে পারবে না। সব জেনেও সে টোটো চালকদের ভাড়া যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল, কিন্তু ওরা রাজি হল না। 
     বাবার মৃত্যুর পর বাড়িতে মা একাই থাকেন। এষা তাঁকে  বিরক্ত করতে চাইল না, তাই যা আছে কপালে ভেবে এষা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাঁটতে শুরু করল। হঠাৎ অন্ধকার ফুঁড়ে দুই যুবক তার দুপাশে এসে দাঁড়াল। এষা জোরে পা চালাতে যেতেই দুই যুবক তাকে এক ঝটকায় রাস্তার পাশের এক পরিত্যক্ত-বন্ধ কারখানর ভিতর টেনে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। বোঝা গেল কারখানার দরজা খোলাই ছিল।
   এতক্ষণে অন্ধকার অনেটাই এষার চোখ সওয়া হয়েগেছে। সে চিৎকার করতে গিয়ে থমকে গেল। অন্ধকারেই দেখল ওদের একজনের হাতে রিভলভার আর অন্যজনের হাতে ধারাল ছুরি চকচক করছে।
    ওর দিকে রিভলভার তাক করা ছেলেটা গালাগালি দিতে দিতে হিস হিস করে উঠল, বিরাট সাংবাদিক হয়েছিস না? এবার কী হবে? তোকে খাব; মারব তারপর পুঁতে দেব। তোকে কে বাঁচাবে তোর বাপ?
    কথাগুলো শুনতে শুনতে অসহায় এষা চোখ বুজে ফেলেছিল। হঠাৎ ধপ করে একটা আওয়াজ হল। এষার চোখ খুলে গেল। সে দেখল, রিভলভারধারী যুবকটি কুড়িফুুট দূরের দেওয়ালের গায়ে আছড়ে পড়ল। তার বাবা দ্বিতীয় যুবকটিকে দুহাতে তুলে দেয়ালের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে। এষা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। 
    বাবাকে দেখে এষা কেঁদে ফেলল, বাবা, তুমি এসেছ বাবা!
সে বাবার দিকে ছুটে যাচ্ছিল। বাবা হাত দেখিয়ে তাকে থামিয়ে দিলেন। এষা দেখল বাবারও চোখের কোনায় জল চিক চিক করছে। মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বাবা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন সঙ্গে সঙ্গে দুই যুবকের উপর কুড়িফুট উঁচু পাঁচিলটা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল।


***লেখক পরিচিতি:- পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার সুখচরে নভেম্বরের পাঁচ তারিখে জন্ম। বাংলা সাহিত্যে ও শিক্ষাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং এম.ফিল. বতর্মানে বিদ্যালয়ে
শিক্ষকতা করেন।
   খুব ছোট থেকেই লিখছেন। একটি ষাণ্মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। চারজনের সঙ্গে একটি যৌথ কবিতার বই আছে। লেখক কবিতা, ছড়া, নাটক আর গল্প লেখেন।

ইন্দিরালয়, নরসিংহ দত্ত ঘাট রোড,
সুখচর, কলকাতা- ৭০০১১৫
চলভাষ- ৯৮৩০৭৯৪৪৮৯
হোয়াটসঅ্যাপ- ৯৭৪৮২৮৩০৩৩
ইমেল- aamidebashis21@gmail.com

জলমাতার সঙ্গে একদিন--তৈমুর খান


জলমাতার সঙ্গে একদিন--
তৈমুর খান


হঠাৎ জলের উপর ভেসে উঠলাম। পৌষের বিকেলবেলা। বুড়িগঙ্গার দুই তীরেই মানুষ থৈথৈ করছে। জলে ডুবুরি নেমেছে। বেশ কয়েকটি ট্রলার এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করছে। মৃতদেহগুলি সারি সারি শোয়ানো আছে। তাহলে আমি কী করে বাঁচলাম? সত্যি আমি কি বেঁচে আছি? নিজের প্রতি সন্দেহ হলো। একটা টলার আমার দিকে ছুটে আসছে। কয়েকজন পুলিশ এবং ডুবুরি বলছে: ওই তো একজন ভেসে উঠল! এখনও জীবিত আছে! সাঁতার দিচ্ছে! আশ্চর্য তো!

    আমার কাছাকাছি এসেই দুই পাশ থেকে হাত দিয়ে টেনে তুলল ট্রলারে। ডাক্তারও অপেক্ষা করছিল। সবকিছু দেখে বলল ঠিকঠাক আছে। কিন্তু আশ্চর্য! সকাল ছয়টা থেকে এই বিকেল চারটে পর্যন্ত জলের তলায় থেকে জল শোষণ করে শরীরটা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কিছুই হয়নি। পেটেও তেমন জল নেই। চোখ-মুখও স্বাভাবিক। ওরা একের পরে এক প্রশ্ন আমার দিকে ছুঁড়ে দিতে লাগল।

 —এতক্ষণ ধরে কোথায় ছিলেন?

 —তা তো বলতে পারব না।

 —ব্রিজ ভেঙে বাসটি সম্পূর্ণ জলে ডুবে যায়। তেমন কেউই বের হতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত ৩০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও জলের তলায় কমপক্ষে ১০ জন রয়ে গেছে। ডুবুরিরা তন্ন তন্ন করে খুঁজছে। অথচ আপনাকে কেউ দেখল না!

 —আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না! বাসটি যখন প্রচণ্ড শব্দে জলে পড়ে, তখন পর্যন্ত আমি জেনেছিলাম। তারপর আমার আর কী হয়েছিল কিছুই মনে নেই। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি সাঁতার কাটছি। আর আপনাদের দেখতে পাচ্ছি।

 —এটা কি সম্ভব? একেবারে অবাস্তব। বারো ঘন্টা ধরে জলের তলায় কোনো মানুষ জীবিত থাকতে পারে না। ইটস্ এ গ্রেট মিস্ট্রিরিয়াস থিংস্।

 —কিন্তু আমিতো মরিনি। আমিতো জীবিতই আছি। চা খাবার ইচ্ছে করছে আমার। গরম গরম দু'কাপ চা খাব।

  সবাই অবাক হয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। ডাক্তার বলল: আপাতত কোনো ওষুধ লাগবে না। তবে নজরে রাখতে হবে। আপনি এখন ফিরতে পারবেন না। ক্যাম্পে থাকুন।

  আমাকে দেখতে শয়ে শয়ে লোক ভেঙে পড়ল। সাংবাদিকরা একের পরে এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে লাগল । ক্যামেরাম্যান বিভিন্ন রকম অ্যাঙ্গেলে ফটো তুলতে লাগল। আমি কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারলাম না। শুধু একটা কথাই বারবার বলতে লাগলাম: আমার কিছু মনে নেই। কীভাবে আমি জলের তলায় ছিলাম সেটাও মনে করতে পারছি না। শুধু মনে হচ্ছে, কেউ যেন আমাকে কোলে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। এত দ্রুত যাচ্ছিল যে আমি কিছুরই ঠাহর করতে পারছিলাম না। চোখ খুলে তাকাতেও পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল কোনো এক পাতালে চলে যাচ্ছি।

     সেদিন অনেক রাতে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দৌলতপুর থানার পুলিশ আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল। বাড়ি পৌঁছেই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। সারা শরীর জুড়ে কীরকম এক ধরনের ব্যথা অনুভূত হচ্ছিল। আর নিজেকে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। সত্যিই আমি কি বারো ঘন্টা ধরে বুড়িগঙ্গার জলের তলায় স্বপ্ন দেখছিলাম?

     সেদিন ছিল সোমবার। শনিবার হাফবেলা স্কুল ছুটি করে বাড়ি এসেছিলাম। সোমবার ফাস্ট বাস গিয়ে আবার স্কুল করতাম। সেই উদ্দেশ্যেই সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাসে উঠি। ডি এস টি সি বাস। এইটুকু মনে পড়ছে বাসের ড্রাইভার একহাতে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেছিলেন। অন্য হাতে মোবাইল নিয়ে কার সঙ্গে জোরে জোরে ঝগড়া করছিলেন। এতই রেগে গেছিলেন যে তিনি দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাই বাস আর কন্ট্রোলে রাখতে পারেননি। দৌলতপুর ব্রিজ ভেঙেই বুড়িগঙ্গার জলে পড়ে যায়। কেবল বাসের খালাসী সাঁতার কেটে তীরে ফিরতে পারে। ড্রাইভারসহ বাসের সব যাত্রীরই সলিল সমাধি ঘটে। তাহলে আমি?

   জলে বাস পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাসে জল ঢুকতে শুরু করে। অধিকাংশ যাত্রীই শীতের পোশাকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের ঢেকে রেখেছিলেন। কেউ কেউ ঘুমের মধ্যেও ছিলেন। ওই পর্যন্তই আমার চেতনা। তারপর যখন জ্ঞান ফিরল, তখন দেখি একটা আশ্চর্য ঘরের মধ্যে আমি বসে আছি। চারিপাশে জল। কিন্তু ঘরের মধ্যে এক ফোঁটাও জল প্রবেশ করছে না। জলই যেন প্রাচীরের মতো দণ্ডায়মান হয়ে আছে। আমার সম্মুখে দীর্ঘদেহী অতীব ফর্সা অশীতিপর এক বৃদ্ধা বসে আছেন। তার চারিপাশে স্তূপ হয়ে আছে মানুষের কঙ্কাল। এত কঙ্কাল! মনে মনে চমকে গেলাম। বৃদ্ধার আয়ত চোখের দিকে চেয়ে থাকলাম অনেকক্ষণ। তারপর ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম: 

—আমি কোথায় এসেছি?

 বৃদ্ধা বললেন: জলপুরীতে।

 —আপনি কে?

 —আমি জলমাতা।

 —জলমাতা! এরকম নাম তো কোনোদিন শুনিনি!

 —জলমাতারা কখনও স্থলে যায় না। তারা জলেই থাকে। জলেই ঘরবাড়ি আর জলেই সংসার।

 আরও অবাক হয়ে ভালো করে চেয়ে দেখলাম। জলমাতার হাত পায়ের আঙুলগুলো মানুষের মতো হলেও অনেক অনেক দীর্ঘ। মাথার চুল সাত হাতের বেশি। বৃদ্ধা হলেও শরীরের ত্বক যুবতী নারীর মতোই উজ্জ্বল ও টকটকে লাল। তিনি যেখানে বসে আছেন তার নিচে জলেরই একটা চৌকি। কিন্তু জল এতটুকু নড়াচড়া করছে না। স্তব্ধ হয়ে খাড়া হয়ে আছে। শরীরে পোশাক বলতে ঝিকিমিকি এক ধরনের রেশমের কাপড়। দুই হাতের আঙুলেই প্রবালের পাথর বসানো আংটি। দুই ঠোঁট এমনই রসালো যে মনে হচ্ছে এখনই কোনো দামি সুস্বাদু পানীয় পান করে এলেন। আমি এসব দেখতে দেখতেই বললাম:

 —সংসারের তো কিছুই দেখছি না!

 কথাটি শুনেই তিনি আঙ্গুল দিয়ে নির্দেশ করলেন:

 —ওই দ্যাখ!

 নির্দেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই সামনে থেকে জলের স্তম্ভ সরে গেল। সম্মুখে উজ্জ্বল হয়ে উঠল একটা আলোক শোভিত অট্টালিকা। মাছের আঁশের মতো উজ্জ্বল চকচকে এর দেওয়াল। ইট দ্বারা যে নির্মিত নয় তা বুঝতে পারলাম। জলের ঢেউকে একত্রিত করে জমাটবদ্ধ করলে যেরকম হয় ঠিক সেরকমই মনে হল। বাড়ির মধ্যে ছোট ছোট অনেক ছেলেমেয়ে ছোটাছুটি করছে। তাদের পরনে ফ্রক জাতীয় পোশাক। কয়েকজন সুন্দরী যুবতী রুপোলী মাছের মতন মনে হচ্ছে ভেসে বেড়াচ্ছে। এক স্বর্গীয় প্রতিভাসে মেতে ওঠা স্বপ্নাতুর দৃশ্য। সারা শরীরে শিহরন অনুভূত হল। তারপর বললাম:

 জলমাতা, আমার খুব তৃষ্ণা পেয়েছে! কিছু পানীয় যদি পান করাতে পারেন?

 জলমাতা বসে বসেই তার হাতখানা প্রসারিত করলেন। আর অমনি দুই হাতে লাল ও নীল রঙের পানীয় এনে বললেন: পান কর। এতেই তোর তৃষ্ণা ও ক্ষুধা নিবারণ হবে।

 অদ্ভূত সেই পানীয়ের স্বাদ। এখনও মুখে লেগে আছে। এখনও ক্ষুধা-তৃষ্ণা বলে কিছু নেই। মনে হচ্ছিল অমৃত পান করছি। সমুদ্র মন্থন করা সেই অমৃত।  সেদিন  তা পান করার পর জলমাতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম: চিরঋণী রইলাম। আপনার দয়া কোনোদিন ভুলতে পারবো না।

 জলমাতা বললেন: দয়াতো প্রথম থেকেই করেছি। বাসে থাকা সবযাত্রী মারা গেছে। আমি শুধু তোকেই বাঁচিয়েছি। আমার হাতের কাছে তুই ছিটকে পড়েছিলি। তবে একটা শর্ত আছে। এটা সারাজীবন তোকে মেনে চলতে হবে।

 কী সেই শর্ত?

 জলমাতা আঙ্গুল তুলে ইশারা করলেন। সেই দিকে তাকাতেই দেখি, আরও তিনটে বাস জলের তলায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন জলের তলায় থেকেও বাসগুলি নষ্ট হয়নি। তা দেখতে দেখতে বললাম: ওগুলো তো বাস! কখন পড়েছিল?

 জলমাতা বললেন: ১০ বছর আগে, আরেকটি ৫ বছর আগে, আরেকটি ৩ বছর আগে। একইভাবেই সব প্যাসেঞ্জারেরই সলিল সমাধি ঘটে। আমার যখন ইচ্ছে হয় তখন এভাবেই একটা বাসকে জলের তলায় আকর্ষণ করি। আর এভাবেই বাস এ্যাক্সিডেন্ট হয়। কেউ জীবিত ফিরে যেতে পারে না।

 —তাহলে আমি তো জীবিত! আমিও কি ফিরে যেতে পারব না?

 একটা শর্তে ফিরে যেতে পারবি, তা হলো, এই জলপুরীর কথা পৃথিবীর কোনো মানুষের কাছে কোনোদিনও বলতে পারবি না। যেদিন বলা শুরু করবি, সেদিনই মুখে রক্ত উঠে মারা যাবি। কেউ বাঁচাতে পারবে না।

 আমি জলমাতার শর্তে রাজি হলাম। বললাম: কোনোদিনও আমি একথা মুখে উচ্চারণ করব না। কোনোদিন আমি বলব না। শুধু আমাকে একটা চিহ্ন দিন সারাজীবন আমি নিজের কাছে রাখব।

 জলমাতা একটা আংটি দিলেন। আর বললেন প্রবালের আংটি। ডান হাতের মধ্যমায় ধারণ করবি। কোথায় পেয়েছিস কেউ জানতে চাইলে কোনোদিনও বলবি না।

 সেই থেকেই এই প্রবালের আংটি আমার হাতে রয়েছে। জলমাতার গল্প কারও সামনেই করিনি। আজ ইচ্ছে হল তাই লিখে জানালাম। জলমাতা, আমাকে ক্ষমা কোরো।

বাঁশবাগানের ভূত -- সাবিত্রী দাস

বাঁশবাগানের ভূত সাবিত্রী দাস আজ যে এত দেরী হয়ে যাবে কে জানতো! পরের হাটবারে ভোর থাকতে বেরোলে দুধ বেচে ঠিক সময়ে  ফিরতে পারবে পানুর...